|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ

ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার: রাজনৈতিক কৌশল নাকি বিপদ?

0 শেয়ার
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও ডিসেম্বরের প্রত্যাবর্তন ঘোষণা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও ডিসেম্বরের প্রত্যাবর্তন ঘোষণা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
  • এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ভার্চুয়াল তৎপরতা বাড়লেও শুরু হয়েছে নানা আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক।
  • সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে ফিরলেই তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।

ঢাকা: কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর দলটির কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নড়েচড়ে বসেছে এবং ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখার চেষ্টা চলছে। তবে তার এই ঘোষণা নিছক রাজনৈতিক কৌশল নাকি বাস্তব প্রত্যাবর্তন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর সংশয়।

সাংবাদিকদের ওপর হামলা: রাবি ছাত্রদলের ৩ নেতা বহিষ্কার, ৬ জনকে শোকজ

গত ১৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন শেখ হাসিনা। বৈঠকে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করা এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। তবে তার দেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট তারিখ বা চূড়ান্ত কোনো পরিকল্পনা ওই বৈঠকে নির্ধারিত হয়নি। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নেত্রীর সবুজ সংকেত পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রয়েছে বড় ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক বাধা। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ জানিয়েছেন, বিমানবন্দর পর্যন্ত আসতে তার বাধা না থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈধ ট্রাভেল ডকুমেন্ট বা ভ্রমণ দলিল ছাড়া তার পক্ষে বিমানে ওঠা অসম্ভব। বাংলাদেশ হাইকমিশন সরকারের নির্দেশনার বাইরে ট্রাভেল কার্ড বা পাসপোর্ট ইস্যু না করলে তার ফেরা অনিশ্চিত। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার সাথে সাথেই গ্রেপ্তার হবেন এবং আদালতের রায় আইন অনুযায়ী কার্যকর করা হবে।

বিজ্ঞাপন
Advertisement
দেশের রাজনীতিতে সাজাপ্রাপ্ত বা পলাতক আসামিদের ফেরানোর ক্ষেত্রে বন্দি বিনিময় চুক্তি এবং ডিপোর্টেশনের আইনি প্রক্রিয়াগুলো বেশ জটিল। ভারত সরকার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার না করলে বা ট্রাভেল কার্ড না পেলে এই প্রত্যাবর্তন অত্যন্ত দুরূহ।

রাজনৈতিক কৌশল ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতাকর্মীদের ধরে রাখতে এবং দলের রাজনৈতিক মৃত্যু ঠেকানোর জন্য এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল। অন্যদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেজবাহ উল আজম সওদাগর একে অবাস্তব ও রাজনৈতিক অপরিপক্কতা বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে ফেরা ছাড়া তার রাজনৈতিক পুনর্বাসনের আর কোনো সুযোগ নেই।

সব মিলিয়ে, শেখ হাসিনার ডিসেম্বরের এই ঘোষণা মাঠের রাজনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন না আনলেও প্রশাসন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে অদৃশ্য এক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই প্রত্যাবর্তন বাস্তবায়িত হয় কি না, তা নির্ভর করছে সরকার ও আইনি ব্যবস্থার কঠোর অবস্থানের ওপর।

Dhaka Story
Dhaka Storyভেরিফাইড

ঢাকা স্টোরি সততা ও সত্যতা যাচাই নীতিমালার অধীনে খবর প্রকাশ করে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজ্ঞাপন

Advertisement
Advertisement
বিজ্ঞাপন
Advertisement
Dhaka Story
ঢাকা স্টোরি
তাত্ক্ষণিক নিউজ আপডেট

ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।