|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধে বিপর্যস্ত জীবন, খাবার-ওষুধ কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন ইরানিরা

0 শেয়ার
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধে বিপর্যস্ত জীবন, খাবার-ওষুধ কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন ইরানিরা
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধে বিপর্যস্ত জীবন, খাবার-ওষুধ কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন ইরানিরা
সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • যুক্তরাষ্ট্রের টানা অবরোধের কারণে ইরানের আর্থিক আয়ের প্রধান উৎস তেল রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে।
  • নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ওষুধ ও বাড়িভাড়া পরিশোধের সামর্থ্য হারাচ্ছেন সাধারণ নাগরিক।
  • অর্থনৈতিক এই সংকটের কারণে অনেকেই জীবন বাঁচাতে শহর ছেড়ে মফস্বলে চলে যাচ্ছেন।

তেহরান: যুক্তরাষ্ট্রের টানা অবরোধ ও তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার কারণে ইরানের অর্থনীতিতে ভয়াবহ ধস নেমেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব আত্মবিশ্বাসী মনোভাব দেখালেও রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নাগরিকরা খাবার, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে চরম হিমশিম খাচ্ছেন। মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্বের ধাক্কায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার মান নেমে গেছে তলানিতে।

বৃটেনের মার্কিন ঘাঁটিতে রহস্যজনক তৎপরতায় বিদেশি পক্ষ জড়িত

দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অবরোধ এবং তেল বিক্রির পথ বন্ধ থাকায় ইরানের মুদ্রা ও বাজারব্যবস্থায় অস্থিরতা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। তেহরানের রেস্তোরাঁ মালিক বেহনাম রিয়াজি জানান, ক্রেতাদের বাড়তি দাম দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় তিনি বাধ্য হয়ে নামমাত্র লাভে পণ্য বিক্রি করছেন, যা দিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে উঠেছে। উত্তর ইরানের ষাটোর্ধ্ব এক গৃহিণী জানান, স্বামীর পেনশনের টাকায় নিজের ওষুধ তো দূরের কথা, আলঝেইমার আক্রান্ত মায়ের ডায়াপার কেনারও উপায় নেই। এছাড়া শিক্ষক, স্থপতি ও প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ সঞ্চয় হারিয়ে রাজধানী ছেড়ে মফস্বল এলাকায় চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

সংকট নিয়ে কথা বলা এক ইরানি নাগরিক বলেন, 'তারা সবাই আগের জীবনযাত্রার তুলনায় এখন দরিদ্র হয়ে গেছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে।'

বিজ্ঞাপন
Advertisement

কালোবাজারের বিস্তার ও জীবনযাত্রার মান পতন

বাজারে পণ্যের কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামের কারণে ইরানে অবৈধ কালোবাজারি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসাসেবা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর জন্য নাগরিকদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। অনেকে অস্ত্রোপচারের দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে চিকিৎসকদের নগদ ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া পুলিশি চেকপোস্ট ও প্রশাসনিক স্তরে ঘুষ বা অতিরিক্ত লেনদেনের অভিযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে। সচ্ছল পরিবারগুলোও তাদের খরচ নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দিয়েছে। চাকরি হারিয়ে অনেক তরুণ দম্পতি ফ্ল্যাট ছেড়ে বস্তিসদৃশ এলাকায় কম খরচে বসবাস শুরু করেছেন। কঠোর গোপনীয়তা বজায় রেখে সাধারণ মানুষ বিদেশি গণমাধ্যমের কাছে তাদের এই দুর্বিষহ বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই গভীর অর্থনৈতিক সংকট তেহরানকে ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সমঝোতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তবে সাধারণ মানুষ এখনই কোনো বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আশা দেখছেন না, কারণ প্রতিদিনের অন্নসংস্থান আর বেঁচে থাকার লড়াই তাদের অন্য কোনো বিষয়ে চিন্তা করার সুযোগ দিচ্ছে না। বেসরকারি খাতে ব্যাপক ছাঁটাই ও জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

Dhaka Story
Dhaka Storyভেরিফাইড

ঢাকা স্টোরি সততা ও সত্যতা যাচাই নীতিমালার অধীনে খবর প্রকাশ করে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজ্ঞাপন

Advertisement
Advertisement
বিজ্ঞাপন
Advertisement
Dhaka Story
ঢাকা স্টোরি
তাত্ক্ষণিক নিউজ আপডেট

ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।