|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ

শরতের মিষ্টি স্বাদ তালের বড়া, রইল ঘরোয়া সহজ রেসিপি

0 শেয়ার
শরতের মিষ্টি স্বাদ তালের বড়া, রইল ঘরোয়া সহজ রেসিপি
শরতের মিষ্টি স্বাদ তালের বড়া, রইল ঘরোয়া সহজ রেসিপি
সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • শরতের মৌসুমি ফল পাকা তাল দিয়ে ঘরেই বানান ফুলকো তালের বড়া।
  • উপকরণ ও ধাপে ধাপে সহজ প্রণালীসহ সম্পূর্ণ রেসিপি পড়ুন।
শরৎ এলেই বাজারে দেখা মেলে পাকা তালের। তালের গুড়ো সুবাস আর মিষ্টি স্বাদের এই মৌসুমি ফল দিয়ে বাংলার ঘরে ঘরে তৈরি হয় তালের বড়া। বৃষ্টিভেজা বিকেলে চায়ের সঙ্গে গরম গরম তালের বড়ার স্বাদ বাঙালির কাছে নস্টালজিয়ার মতো। রেসিপিটা আসলে বেশ সহজ, তবে তালের রস বের করা আর ভাজার কায়দাটুকু জানা থাকলেই বড়া হয় ফুলকো আর সুস্বাদু।

                                        
                                                                                    
বর্ষা ও শীতকালে গর্ভবতী মায়ের বিশেষ সুরক্ষা
তালের বড়া শুধু খেতেই ভালো নয়, এটি পরিবারের সবাই মিলে বানানোর আনন্দও বয়ে আনে। অনেকেই মনে করেন বড়া বানানো কঠিন, আসলে উপকরণগুলো ঠিকমতো মেপে নিলেই কাজ অনেকটা সহজ হয়ে যায়। তালের বড়া বানানোর সময় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তেলের তাপমাত্রা। তেল খুব বেশি গরম হলে বড়ার বাইরের দিক পুড়ে যাবে আর ভেতরটা কাঁচা থেকে যাবে। আবার ঠান্ডা তেলে বড়া ছাড়লে সেটা অনেক তেল টেনে নেবে। তাই পুরো ভাজির সময় মাঝারি আঁচ ধরে রাখাই সবচেয়ে ভালো।
বিজ্ঞাপন
Advertisement
## তাল বাছাই ও রস বের করার কায়দা ভালো তালের বড়ার প্রথম শর্ত হলো ভালো তাল বাছাই করা। পাকা তাল কিনতে গেলে খোসার রং দেখুন। গাঢ় বাদামি বা কালচে রঙের তাল সাধারণত ভালোভাবে পেকেছে। তাল হাতে নিয়ে হালকা চাপ দিলে নরম মনে হওয়া উচিত, আর নাকের কাছে ধরলে মিষ্টি গন্ধ পাওয়া যাবে। কাঁচা বা আধপাকা তালে রস কম থাকে, আর স্বাদে তিতকুটে ভাব আসতে পারে। তাই তাল কেনার সময় একটু সময় নিয়ে বেছে নিন। তালের রস বের করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো খোসা ছাড়িয়ে ভেতরের কোয়াগুলো আলাদা করে নেওয়া। তারপর কোয়া হাতে চটকে বা ব্লেন্ডারে হালকা ঘুরিয়ে ছাকনি দিয়ে ছেঁকে নিন। ছাঁকার সময় কাঁথি বা আঁশ যাতে রসে না মেশে সেদিকে খেয়াল রাখুন, কারণ আঁশ থাকলে বড়ার গায়ে সুতোর মতো দাগ পড়ে দেখতে খারাপ লাগে। এক কাপ ঘন রস পেতে সাধারণত মাঝারি আকারের দুই থেকে তিনটি তাল লাগে। রস বের করার পর বেশিক্ষণ ফেলে রাখবেন না, টাটকা রসেই বড়ার স্বাদ সবচেয়ে ভালো হয়।
বিজ্ঞাপন
Advertisement
## ব্যাটারের সঠিক ঘনত্ব তালের বড়ার ব্যাটার হবে ঘন কেকের ব্যাটারের মতো। চামচে তুলে ছাড়লে ধীরে ধীরে পড়বে, কিন্তু পানির মতো গড়িয়ে যাবে না। ব্যাটার পাতলা হলে তেলে ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছড়িয়ে যাবে আর বড়া হবে চ্যাপ্টা ও তেলতেলে। আবার বেশি ঘন হলে ভেতরটা কাঁচা থেকে যাবে আর বড়া হবে শক্ত। চালের গুঁড়া পানি টেনে ফুলে ওঠে, তাই মেশানোর পর ১৫ থেকে ২০ মিনিট ঢেকে রাখা জরুরি। এই সময়ের পর ব্যাটার আরও ঘন হয়ে আসবে, তখন প্রয়োজনে এক দুই চামচ পানি মিশিয়ে ঘনত্ব ঠিক করে নিন। মনে রাখবেন, ব্যাটার একটু ঘন থাকাই ভালো, পাতলা ব্যাটার সামলানো কঠিন। ## উপকরণ পাকা তালের রস ১ কাপ, চালের গুঁড়া ১ কাপ, গমের আটা আধা কাপ, গুড় বা চিনি আধা কাপ, নারকেল কোরা আধা কাপ, কলা চটকে নেওয়া ১টি, লবণ এক চিমটি, কালো জিরা সামান্য, বেকিং পাউডার আধা চা চামচ, ডুবো তেলে ভাজার জন্য পর্যাপ্ত তেল। ## প্রণালী ১. পাকা তালের খোসা ছাড়িয়ে শক্ত রসটা ছেঁকে নিন। চাইলে ব্লেন্ডারে হালকা ঘুরিয়ে ছাকনি দিয়ে ছেঁকে নিলে কাঁথি বেরিয়ে আসবে না। ২. একটি বড় বাটিতে তালের রস, চালের গুঁড়া, আটা, গুড় বা চিনি, নারকেল কোরা, চটকানো কলা ও লবণ একসঙ্গে মিশিয়ে ঘন ব্যাটার তৈরি করুন। ৩. ব্যাটারে কালো জিরা ও বেকিং পাউডার দিয়ে ভালোভাবে মেশান। ব্যাটার খুব পাতলা হলে বড়া ছড়িয়ে যাবে, খুব ঘন হলেও ফুলবে না। ৪. ব্যাটারটি ১৫ থেকে ২০ মিনিট ঢেকে রাখুন, এতে চালের গুঁড়া ফুলে উঠবে। ৫. কড়াইতে তেল গরম করুন মাঝারি আঁচে। তেল ধোঁয়া ওঠা পর্যন্ত গরম না করে হালকা গরম রাখুন। ৬. হাতে বা চামচে ছোট ছোট করে ব্যাটার তুলে তেলে ছাড়ুন। দুই পাশ সোনালি বাদামি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। ৭. কাগজ বা ছাঁকনিতে তুলে অতিরিক্ত তেল ঝরিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন। ## সাধারণ ভুল ও সমাধান প্রথমবার তালের বড়া বানাতে গিয়ে কয়েকটি ভুল প্রায়ই হয়। বড়া তেলে ছাড়ার পর যদি ভেঙে যায়, তাহলে বুঝবেন ব্যাটারে আটা বা চালের গুঁড়া কম হয়েছে। একটু গুঁড়া মিশিয়ে আবার চেষ্টা করুন। বড়ার ভেতর কাঁচা থাকলে আঁচ কমিয়ে আরও কিছুক্ষণ ভাজুন, তাড়াহুড়ো করে আঁচ বাড়াবেন না। বড়া যদি বেশি তেল টেনে নেয়, তাহলে বুঝবেন তেল ঠান্ডা ছিল। আঁচ একটু বাড়িয়ে তেল গরম করে নিন। বড়া শক্ত হলে হয়তো ব্যাটার বেশি ঘন ছিল বা বেকিং পাউডার দিতে ভুলে গেছেন। আর বড়ার রং সমান না হলে ভাজার সময় একটু নেড়ে দিন যাতে সব দিক সমানভাবে ভাজা হয়। এই ছোট ছোট বিষয়গুলো খেয়াল রাখলেই প্রতিবার পারফেক্ট বড়া হবে। ## পরিবেশন ও সংরক্ষণের টিপস গরম তালের বড়া চায়ের সঙ্গে যেমন জমে, তেমনি ঠান্ডা হলেও খেতে মন্দ লাগে না। বিকেলের নাস্তায় চা বা কফির সঙ্গে গরম বড়া পরিবেশন করুন। চাইলে বড়ার সঙ্গে একটু মধু বা গুড়ের সিরা দিতে পারেন, যদিও বড়া নিজেই যথেষ্ট মিষ্টি। অতিথি এলে বড়া বানিয়ে গরম গরম পরিবেশন করলে সবাই খুশি হবে। বড়া বানিয়ে ঠান্ডা করে এয়ারটাইট বাক্সে রাখলে পরদিনও খাওয়া যায়। খাওয়ার আগে তাওয়ায় বা ওভেনে হালকা গরম করে নিলে স্বাদ অনেকটা ফিরে আসে। তবে মনে রাখবেন, টাটকা গরম বড়ার স্বাদের কোনো তুলনা নেই। তাই সম্ভব হলে খাওয়ার ঠিক আগেই ভেজে নিন। ## একটু ভিন্ন স্বাদ চাইলে গুড়ের বদলে চিনি দিলে বড়ার রং হবে হালকা সোনালি আর স্বাদে আসবে ভিন্নতা। নারকেল কোরা না থাকলে বাদ দিলেও চলে, তবে নারকেল দিলে বড়ায় আসে চমৎকার সুবাস। কেউ কেউ ব্যাটারে এক চিমটি এলাচ গুঁড়া মেশান, এতে মিষ্টি গন্ধ আরও বাড়ে। কলার বদলে মিষ্টি কুমড়া সেদ্ধ করে চটকে দিলেও বড়া হয় নরম ও সুস্বাদু। যারা কম মিষ্টি পছন্দ করেন, তারা গুড়ের পরিমাণ কমিয়ে নিতে পারেন। তালের মৌসুমে একবার বানিয়ে দেখুন, পরিবারের সবাই প্লেট খালি করে দেবে। শরতের এই ঐতিহ্যবাহী স্বাদ একবার মুখে লাগলে প্রতিবছর তালের মৌসুমের অপেক্ষায় থাকবেন।
Dhaka Story
Dhaka Storyভেরিফাইড

ঢাকা স্টোরি সততা ও সত্যতা যাচাই নীতিমালার অধীনে খবর প্রকাশ করে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজ্ঞাপন

Advertisement
Advertisement
বিজ্ঞাপন
Advertisement
Dhaka Story
ঢাকা স্টোরি
তাত্ক্ষণিক নিউজ আপডেট

ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।