|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ

বিশ্বের নজরে বঙ্গোপসাগর, বাড়ছে কৌশলগত গুরুত্ব ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা

0 শেয়ার
ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন
ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন
সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের লিডারশিপ ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
  • সম্মেলনে নিরাপত্তা, সংযোগ, জলবায়ু ও জ্বালানি নিয়ে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনা করেছেন।
  • বিশ্বের সামুদ্রিক বাণিজ্যের ২৫ শতাংশ এই বঙ্গোপসাগর দিয়ে পরিবাহিত হয়।

ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের কৌশলগত সংযোগস্থলে অবস্থিত বঙ্গোপসাগর এখন নিরাপত্তা, সংযোগ, জলবায়ু, জ্বালানি ও বৈশ্বিক প্রভাবের প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে অবস্থান করছে। সোমবার বিকেলে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের লিডারশিপ ফোরামে ‘হোয়াই দ্য বে ম্যাটারস টু দ্য ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক অধিবেশনে দেশি-বিদেশি আলোচকেরা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সংলাপের অধিবেশনে পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া ও মালদ্বীপের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী।

পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে স্পিকারকে তিন সংগঠনের স্মারকলিপি

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বঙ্গোপসাগর শুধু দেশ ও সংস্কৃতিকেই যুক্ত করেনি, এটি বর্তমানে এমন এক প্রধান ক্ষেত্র যেখানে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির নানা সমীকরণ মিলিত হয়েছে। বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ২৫ শতাংশ এই সাগরপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। পাশাপাশি প্রাকৃতিক সম্পদ, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভভিত্তিক কার্বন শোষণ ক্ষমতা ও জ্বালানি মজুতে এই অঞ্চল অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ফলে আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোকে সামুদ্রিক সংযোগ, জলবায়ু সহনশীলতা ও ব্লু ইকোনমি রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করার তাগিদ দেওয়া হয়।

কৌশলগত পরিবর্তন ও বিভিন্ন দেশের দৃষ্টিভঙ্গি

অধিবেশনে পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও ইসলামাবাদভিত্তিক সানা ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান আইজাজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, পাকিস্তান ধীরে ধীরে মহাদেশীয় পরিসর থেকে সামুদ্রিক পরিসরের দিকে ঝুঁকছে। প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার বর্গকিলোমিটারের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল ব্যবহার এবং ব্লু ইকোনমিতে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি মহাশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা বাড়ায় ভূ-রাজনীতি দ্রুত বদলাচ্ছে। তিনি ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বদলে উইন-উইন সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেন। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রদীপ কে. তানেজা বলেন, চীনের অর্থনৈতিক ও সামরিক উত্থান বঙ্গোপসাগরে দেশটির উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। তবে আঞ্চলিক সমৃদ্ধির জন্য শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্মুক্ত সমুদ্রপথ বজায় রাখা জরুরি।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিয়ান ব্রিক মোলার জানান, ডেনমার্ক বাংলাদেশ ও বঙ্গোপসাগরে গভীরভাবে আগ্রহী। এর পেছনে রয়েছে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব, সবুজ ও অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় অঙ্গীকার। ডেনমার্ক ইতিমধ্যেই চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে এবং অফশোর বায়ুসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ড. জন কে. গ্লেন গণতন্ত্র, সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনীন রশীদ জলদস্যুতা ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের দেশগুলোকে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। আঞ্চলিক শান্তি ও উন্মুক্ত সমুদ্র যোগাযোগ বজায় রাখার মাধ্যমেই কেবল এই ভূখণ্ডের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

Dhaka Story
Dhaka Storyভেরিফাইড

ঢাকা স্টোরি সততা ও সত্যতা যাচাই নীতিমালার অধীনে খবর প্রকাশ করে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজ্ঞাপন

Advertisement
Advertisement
বিজ্ঞাপন
Advertisement
Dhaka Story
ঢাকা স্টোরি
তাত্ক্ষণিক নিউজ আপডেট

ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।