
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করায় শূন্য হওয়া সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনটিতে কে বসছেন, তা নিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। দলের চেনা মুখ, সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেত্রীদের পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের সংগঠকেরাও এই আসনে দলের মনোনয়ন পেতে ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। ক্ষমতাসীন দলের এই আসনে সুযোগ পেতে অনেকেই কেন্দ্রে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন।
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় নাম আসার পর রাজনৈতিক প্রশ্নের মুখে পড়েন মিষ্টি। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার পর গত ১ অক্টোবর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র দেন তিনি। তবে মিষ্টি এই হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। নিয়মানুযায়ী সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সদস্যদের আনুপাতিক হারে দলটি এই আসনটি পাবে।
দল এখন ক্ষমতায়, ফলে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য হতে আগ্রহীদের সংখ্যাও বেশি। দলের চেনা নেত্রীদের বাইরেও অনেকে মনোনয়ন পেতে চেষ্টা-তদবির করছেন। সব দিক বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। , বিএনপির দায়িত্বশীল কেন্দ্রীয় নেতা
জাতীয় সংসদ সংরক্ষিত মহিলা আসন নির্বাচন আইন, ২০০৪-এর ২৭ ধারা অনুযায়ী আসন শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন করতে হয়। সে হিসাবে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এই আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন বিএনপির সহ-মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আইনজীবী শাহানা আক্তার সানু, আয়শা সিদ্দিকা মনি, মহিলা দলের দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক আইনজীবী শাহিনুর বেগম সাগর, খন্দকার ফারহানা আতিকা, আফরোজা খানম নাসরিন, মাসুদা আফরোজ হক সূচি, হাসনাহেনা চৌধুরী হীরা এবং রুনা লায়লা।
গত ৩০ এপ্রিল বিএনপির ৩৬ জন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশিত হয় এবং তাঁরা ৩ মে শপথ নেন। তবে পাঁচ মাসের মাথায় মিষ্টির পদত্যাগে আসনটি শূন্য হওয়ায় নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় ও পরিশ্রান্ত নেত্রীদের মধ্য থেকেই কাউকেও এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে চূড়ান্ত করা হতে পারে।
নির্বাচন কমিশন এখনো এই উপনির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করেনি। তবে বিএনপির হাইকমান্ডের চূড়ান্ত সবুজ সংকেত পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন মনোনয়নপ্রত্যাশী নেত্রীরা। দলীয় শৃঙ্খলা ও সংসদীয় কার্যকারিতায় দক্ষ কাউকে এই শূন্য আসনে বেছে নেওয়া হবে বলে দলের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।