
গত বুধবার ভোররাতে রাজধানীর দারুসসালামের গাবতলী এলাকায় জন্মদিনের রাতে শখের চাকু দিয়ে ইমন সর্দার (২৬) নামের এক রিকশাচালককে হত্যা করা হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্তে জানা গেছে, ফুটপাত থেকে ৬৫০ টাকায় কেনা একটি চাকু নিয়ে জন্মদিনের রাতে বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরার সময় সামান্য বাগ্বিতণ্ডার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরসহ তিনজনকে গত শনিবার গ্রেপ্তার করেছে ডিবির মিরপুর বিভাগ। নিহত ইমন সর্দার পাবনা সদর উপজেলার রাধানগর গ্রামের রাশেদুল ইসলাম ওরফে মুন্না সর্দারের ছেলে। তিনি ঢাকায় রিকশা চালানো ছাড়াও দিনমজুরের কাজ করতেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ১৬ বছর পূর্ণ হওয়া সাদ (ছদ্মনাম) শখের বশে ফুটপাত থেকে ৬৫০ টাকায় একটি চাকু কিনেছিল। জন্মদিনের রাতে বয়সে বড় একজনের ডাকে প্রথমবার মদ পান করার পর রাত একটার দিকে গাবতলী এলাকায় আসে সে। এরপর বন্ধু ফরিদকে (ছদ্মনাম) বাসা থেকে ডেকে এনে গাবতলীতে ঘোরাফেরা করার সময় এক রিকশাচালকের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে রাত তিনটার দিকে আরেক বন্ধু জাহিদকে (ছদ্মনাম) ডেকে এনে একটি চায়ের দোকানে আড্ডার সময় ওই রিকশাচালককে নিয়ে আলোচনা হয়। জাহিদের উসকানি এবং পরবর্তীতে রিকশাচালক হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় তাঁকে থাপ্পড় মারার পর সাদ সঙ্গে থাকা চাকু দিয়ে তাঁর ঘাড়ের পেছনে আঘাত করে।
ডিবির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান জানান, তিন কিশোরের কারও বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধে জড়ানোর তথ্য পাওয়া যায়নি এবং তারা পেশাদার অপরাধীও নয়। উঠতি বয়সের উত্তেজনা, তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ও বন্ধুদের উসকানি থেকেই তারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন থেকেই দারুসসালাম থানায় করা মামলাটি ছায়া তদন্ত শুরু করে ডিবি। আল্লাহর দান হোটেল ও আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তিন কিশোরের ছবি শনাক্ত করা হয়। প্রথমে সন্দেহভাজন তিন ছিনতাইকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও পরে সিসিটিভির ছবি দেখে ফরিদকে শনাক্ত করা হয়। গাবতলীর একটি হোটেলে কাজ করা ফরিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী থেকে ফরিদ, ভোলা থেকে জাহিদ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থেকে সাদকে হেফাজতে নেয় ডিবি। সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফাতেমা রেজিনা ইকবাল এ বিষয়ে বলেন, কিশোর বয়সে আবেগ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা পুরোপুরি তৈরি হয় না, ফলে তারা অপরাধ বা কিশোর গ্যাং সংস্কৃতির দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে। তিনি সন্তানদের চলাফেরা ও বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের বাড়তি নজরদারির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। বর্তমানে গ্রেপ্তার হওয়া তিন কিশোরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার অন্যান্য দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।