
সরকারিভাবে নতুন ভাড়া নির্ধারণের কোনো সিদ্ধান্ত আসার আগেই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি বাসভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সরেজমিন দেখা গেছে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে পরিবহন মালিকরা নিজেদের মতো করে ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন, যা সাধারণ যাত্রীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। এর ফলে বিভিন্ন কাউন্টারে যাত্রীদের সঙ্গে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত বাগবিতণ্ডা ও অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে।
রাজধানীর সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, বরিশাল এবং খুলনা রুটের বাসগুলোতে এই বাড়তি ভাড়া নেওয়ার সত্যতা মিলেছে। ঢাকা থেকে নোয়াখালীর মাইজদী রুটে জনপ্রতি বাসভাড়া ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫০ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে সিলেট ও অন্যান্য দূরপাল্লার রুটেও যাত্রীদের পকেট থেকে অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেওয়া হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি বা বিআরটিএর পক্ষ থেকে এখনো নতুন কোনো ভাড়ার তালিকা বা প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি।
"দুই দিন আগেও ৬০০ টাকা করে ভাড়া দিয়ে এসেছি। আজ কোনো কারণ ছাড়াই ৫০ টাকা বেশি নিচ্ছে এবং এক টাকাও কম রাখছে না। সরকারি নিয়মনীতি না মেনে এভাবে হঠাৎ ভাড়া বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।" - আউয়াল, নোয়াখালীগামী এক যাত্রী।
বাস কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতারা দাবি করছেন, পাম্প থেকে তাদের বেশি দামে জ্বালানি তেল কিনতে হচ্ছে। জ্বালানি খরচের এই বাড়তি চাপ সামাল দিতেই তারা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন। তবে সরকারি সিদ্ধান্ত আসার আগেই এমন একতরফা ভাড়া বৃদ্ধি সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত বলে মন্তব্য করেছেন যাতায়াত সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ৮ পয়সা, নগর পরিবহনের বাসে প্রতি কিলোমিটারে ১০ পয়সা এবং লঞ্চে প্রতি নটিক্যাল মাইলে ৫ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। অর্থনৈতিক চাপের মুখে থাকা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত যাত্রীরা পূর্বঘোষণা ছাড়াই বাড়তি ভাড়া গুনতে বাধ্য হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অবিলম্বে বিআরটিএ এবং পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত সিদ্ধান্ত না আসলে জনদুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করবে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধ করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।