
পাবনার সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার মোস্তফা প্রামাণিক রিমান্ডে পুলিশের কাছে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। পুলিশের ভাষ্যমতে, মোস্তফা মাগরিবের নামাজের পরপরই শিশুটিকে ধর্ষণ করেন এবং এর ১৫ মিনিটের মধ্যে তাকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিখোঁজ হওয়ার সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় কলির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াসিন আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক বেনু রায় জানান, মোস্তফা হত্যার পর নিহতের পরিবারের সঙ্গে খোঁজাখুঁজিতে অংশ নিয়েছিলেন এবং বিচারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনেও উপস্থিত ছিলেন।
তদন্তে মোস্তফার মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে বিভিন্ন কম বয়সী মেয়ের আপত্তিকর ভঙ্গিতে তোলা অসংখ্য ছবি পাওয়া গেছে, যা তার পূর্বের দুশ্চরিত্রের পরিচয় বহন করে।
মামলার তদন্ত প্রায় ৯৯ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে ডিজিটাল ফরেনসিকসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারী দল। গত সোমবার নিহত শিশুর আলামত রাজশাহীতে সিআইডির পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে যে, ধর্ষণ ও হত্যায় ঠিক কতজন সরাসরি জড়িত ছিল। আসামি ইয়াসিন আলী ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করলেও, মোস্তফার দাবি অনুযায়ী তারা দুজন মিলে এই অপরাধ সংঘটিত করেছেন।
আরও পড়ুন: মরিয়ম খাতুনের মৃত্যু: এমপি নজরুল ও তার স্ত্রীর ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন
ঘটনার পর থেকে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযুক্ত মোস্তফার বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে এবং দ্রুত বিচারের দাবিতে এলাকাবাসী পাবনা আদালত ও ডিসি অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরপরই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।