
কক্সবাজারের জামতলীসহ বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নানা সীমাবদ্ধতা ও অভাব-অনটনকে পেছনে ফেলে পরিবর্তনের অদম্য দূত হয়ে উঠেছে শিশুরা। নিজেদের জীবনের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাকেন্দ্র থেকে পাওয়া সুরক্ষার পাঠ কাজে লাগিয়ে তারা এখন ক্যাম্পের অন্য শিশু ও কিশোরীদের মাঝে সচেতনতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ থেকে শুরু করে ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষাকেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা এবং স্বাস্থ্যবিধি শেখানোর কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছে এই খুদে পরিবর্তনের কারিগররা। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ক্যাম্পের শিশুদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সামগ্রিক পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে।
মিয়ানমারের সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুতির নিষ্ঠুর বাস্তবতা মাথায় নিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এসব শিশুর জন্য জীবনসংগ্রাম নিত্যদিনের হলেও তারা কেবল ত্রাণের অপেক্ষায় হাত গুটিয়ে বসে নেই। তথ্য বলছে, রোহিঙ্গা শিশুদের সুরক্ষা ঝুঁকির প্রায় ৮ শতাংশই বাল্যবিয়ে এবং এই ঝুঁকির শিকার ৯৯ শতাংশই কিশোরী। আর্থিক সংকট ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাবে ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের ৭০ শতাংশ শিক্ষার বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। এমন বাস্তবতায় সালেমা কিংবা শামীমার মতো শিশুরা নিজেরাই হয়ে উঠেছে সুরক্ষার প্রথম দেয়াল।
শিশুদের নিজেদের মধ্যে তৈরি হওয়া এই সচেতনতা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রভাবে ক্যাম্পগুলোতে বাল্যবিয়ে প্রবণতা আগের চেয়ে কিছুটা কমে এসেছে। - জামিলা বেগম, স্থানীয় অভিভাবক
শিশুদের নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে নিবন্ধিত ঘটনার প্রায় ২০ শতাংশই প্রথম শনাক্ত করে স্থানীয় প্রটেকশন কমিটিগুলো। এর মধ্যে অন্তত ২ শতাংশ ঘটনা শিশু, কিশোরী ক্লাব এবং এডোলেসেন্ট গ্রুপের শিশুরা সরাসরি প্রতিরোধ বা রিপোর্ট করছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩২০টি শিশু নেতৃত্ব দল গঠিত হয়েছে, যেখানে যুক্ত রয়েছে ৩ হাজার ২০০ এর অধিক শিশু-কিশোর। তারা খেলাধুলা ও ছড়ার মাধ্যমে ছোটদের পরিচ্ছন্নতা শেখানোসহ নানা সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স ও ব্র্যাকের মতো সংস্থাগুলো ইতিবাচক অভিভাবকত্ব সেশনের মাধ্যমে এই কার্যক্রমে সহায়তা করে আসছে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শিশুদের কল্যাণে পরিচালিত এই ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, পরিবার ও কমিউনিটির সমন্বিত সহায়তায় এই উদ্যোগগুলো দীর্ঘস্থায়ী ও ফলপ্রসূ হবে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।