
দুঃশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করতে এবং জনগণের অধিকার আদায়ে চূড়ান্ত লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. শফিকুর রহমান। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশেকপুর বাইপাসে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন। প্রথম বাক্য থেকেই স্পষ্ট যে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারের বিভিন্ন নীতির তীব্র সমালোচনা করে দেশব্যাপী আট দফা দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করছে ১১ দলীয় জোট।
গত কয়েক মাস ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা পটপরিবর্তনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে এই লংমার্চের আয়োজন করা হয়। এর আগে গত সপ্তাহে লংমার্চ শুরুর সময় থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
আরও পড়ুন: দুর্নীতি ও আধিপত্যবাদ রুখতে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু জামায়াতের
পথসভায় সরকারের কঠোর সমালোচনা করে ড. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ৭০ শতাংশ মানুষের ভোটের রায়কে কেন সম্মান জানানো হলো না। ১৪ শ মানুষের রক্তের ওপর ক্ষমতায় বসে কেন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হলো না, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ সময় তিনি আরও যোগ করেন:
লড়াই হবে, সকল দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই হবে ইনশাল্লাহ। সেই লড়াইয়ে জনতার বিজয় হবে। জনগণের প্রয়োজনে আমাদের দাবি আরও জোরালো করা হবে।
পথসভায় অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, সরকার জনগণের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হলে ১১ দল বিকল্প পন্থায় কথা বলতে প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, অভ্যুত্থানের পর জনগণের সাথে প্রতি পদে পদে প্রতারণা করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রে এখনো দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি রয়ে গেছে। এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রমসহ জোটের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারাও সভায় বক্তব্য রাখেন। উল্লেখ্য, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসন এবং দুর্নীতি বন্ধসহ মোট আট দফা দাবিতে এই লংমার্চ পরিচালিত হচ্ছে।
সার্বিক পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকদের মতে, ১১ দলীয় জোটের এই লংমার্চ ও কঠোর হুংকার দেশের রাজনৈতিক মাঠে নতুন উত্তাপ ছড়াচ্ছে। বর্তমান প্রশাসন এই দাবিগুলো কতখানি গুরুত্বের সাথে নেয় এবং সংকট নিরসনে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আগামী দিনগুলোতে এই রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।