
ঢাকা: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের সুনির্দিষ্ট চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চলমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রমগুলোকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে অভিন্ন সিলেবাসে প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির তৃতীয় সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই এবং সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা এতে উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমান সময়ে দেশের যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়নকে অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বহু প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও যথাযথ সুনির্দিষ্ট সমন্বয়ের অভাবে এসব প্রশিক্ষণ কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আনতে ব্যর্থ হচ্ছে। এর ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এসব সনদের বিপরীতে দেশের তরুণ প্রজন্ম তাদের প্রাপ্য স্বীকৃতি পাচ্ছে না। এই সমস্যা দূর করতে এনএসডিএ-র গভর্নিং বডিকে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি ছোট কমিটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
"এনএসডিএ-র গভর্নিং বডিকে অল্প সময়ের মধ্যে একটি ছোট কমিটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে হবে। অভিন্ন ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ এবং সনদায়ন ব্যবস্থা চালু করা গেলে দেশের তরুণদের দক্ষতা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।" - প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সভায় এনএসডিএ-র বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো, জনবল ও সামগ্রিক কার্যাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। এছাড়া জাতীয় দক্ষতা উন্নয়নসংক্রান্ত নীতি ও কৌশলপত্র, খাতভিত্তিক দক্ষতার চাহিদা বিশ্লেষণ এবং স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বিভিন্ন দপ্তরের আলাদা কারিকুলাম বাদ দিয়ে একটি একক কাঠামোগত সিলেবাস বাস্তবায়িত হলে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে এবং প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞানের মান আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত হবে।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব এবং সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রত্যেকেই প্রধানমন্ত্রীর এই সময়োপযোগী নির্দেশনার পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একযোগে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আগামী দিনে দেশের কর্মক্ষম যুবশক্তিকে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে এই উদ্যোগ ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।