
ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালীর উষ্ণ পানিতে বিশালাকার বাণিজ্যিক জাহাজ আটকে থাকায় বিশ্বজুড়ে বহিরাগত ও ক্ষতিকর জলজ প্রজাতির ব্যাপক বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মেরিল্যান্ড ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের সামুদ্রিক পরিবেশবিদ মারিও টাম্বুরির মতে, জাহাজগুলোর ব্যালাস্ট জল এবং খোলে এ ধরনের ক্ষতিকর প্রাণী জমা হচ্ছে, যা জাহাজগুলো পুনরায় চলাচল শুরু করলেই বৈশ্বিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীর এই জলজ সংকট নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পারস্য ও আরব উপসাগরের অত্যন্ত উষ্ণ ও লবণাক্ত পানির কারণে সেখানকার প্রাণীরা চরম প্রতিকূল পরিবেশেও বেঁচে থাকতে অভ্যস্ত। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এই বিশেষ অভিযোজন ক্ষমতার কারণে প্রাণীগুলো বিশ্বের অন্যান্য বন্দরে গিয়েও সহজে টিকে থাকতে পারবে এবং নতুন পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
পরিবেশবিদ মারিও টাম্বুরি এ বিষয়ে বলেন,
যেসব প্রজাতি চরম প্রতিকূল পরিবেশ ও তাপমাত্রায় টিকে থাকতে পারে, তারাই মূলত সফল আক্রমণাত্মক প্রজাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। উপসাগরের এই অতিউষ্ণ পানির প্রাণীরা নতুন পরিবেশে গিয়েও নিজেদের ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য বজায় রাখতে সক্ষম।
টরন্টো এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কের সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বের দ্রুত উষ্ণ হওয়া বড় হ্রদগুলোর মধ্যে লেক সুপিরিয়র অন্যতম। হ্রদটিতে গত কয়েক দশকে বরফ জমার হার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ল্যাম্প্রে ও জেব্রা ঝিনুকের মতো ক্ষতিকর প্রজাতি ইতিমধ্যে সেখানে থিতু হয়েছে। হরমুজ প্রণালী থেকে আসা অত্যন্ত সহনশীল প্রজাতিগুলো যদি কোনোভাবে এসব মিঠাপানির জলাশয়ে প্রবেশ করে, তবে তা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
জাহাজ চলাচলের এই বর্তমান স্থবিরতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক চক্র সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, উপসাগরের অতি সহনশীল প্রজাতিগুলো বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির এই সময়ে সহজেই নতুন জলবায়ু অঞ্চলের সাথে মানিয়ে নিতে পারবে, যা ভবিষ্যতে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।