নকআউট পর্বে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। সেলেকাওদের এমন আকস্মিক বিদায়ে বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের হৃদয় ভেঙে গেছে। তবে এই হারের পর দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির দিকে সরাসরি আঙুল তুলেছেন ব্রাজিলের সাবেক রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার ফেলিপে মেলো। একটি খেলাধুলার বিশেষ অনুষ্ঠানে ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় তিনি আনচেলত্তির কৌশলের তীব্র সমালোচনা করেন।
মেলো মনে করেন, দলের এই বিপর্যয়ের পেছনে কোচের ভুল সিদ্ধান্তই সবচেয়ে বেশি দায়ী। তিনি বলেন যে হারের পর কোচের ঘাড়ে দোষ চাপানো খুব সহজ কাজ হলেও, এই ক্ষেত্রে আসলেই কোচকে জবাবদিহি করতে হবে। কারণ দল হিসেবে ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম সেরা কোচকে এনেছিল, তাই ব্যর্থতার দায় সবার আগে তারই নেওয়া উচিত।
ম্যাচে চোটের কারণে খেলতে পারেননি নিয়মিত খেলোয়াড় লুকাস পাকেতা। মেলোর মতে, পাকেতার জায়গায় গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে না নামিয়ে শুরু থেকেই নেইমারকে মাঠে রাখা উচিত ছিল। ম্যাচের ১৪ মিনিটে ব্রাজিল একটি পেনাল্টি পেয়েছিল, যা ব্রুনো গিমারাইস মিস করেন। মেলো মনে করেন, নেইমার প্রথমার্ধ থেকে মাঠে থাকলে তিনিই পেনাল্টি শটটি নিতেন এবং গোল করে দলকে এগিয়ে দিতেন। এর ফলে ম্যাচের পুরো গল্পটাই অন্যরকম হতে পারত।
ম্যাচের ৬৭ মিনিটে মার্তিনেল্লির বদলি হিসেবে নেইমার যখন মাঠে নামেন, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। যদিও শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলের একমাত্র গোলটি নেইমারই করেন। ম্যাচ শেষে কোচ আনচেলত্তি নিজেও স্বীকার করেছেন যে পেনাল্টি নেওয়ার ক্ষেত্রে নেইমারই দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তারকা।
গত বছরের মে মাসে ব্রাজিলের কোচের দায়িত্ব নেন ইতালিয়ান কোচ আনচেলত্তি। চলতি বছরের মে মাসে তার চুক্তির মেয়াদ আরও চার বছর বাড়ানো হয়। এই চুক্তি নবায়নের পর থেকেই ব্রাজিলের ফুটবল মহলে গুঞ্জন শুরু হয় যে সিবিএফ আসলে ২০২৬ বিশ্বকাপ নয়, বরং ২০৩০ বিশ্বকাপকে পাখির চোখ করে এগোচ্ছে। নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর আনচেলত্তির মন্তব্যও সেই গুঞ্জনকে উসকে দেয়, যেখানে তিনি এই হারকে নতুন এক অভিযানের শুরু বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ব্রাজিলের এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে মোটেও সন্তুষ্ট নন ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি রোমারিও। তিনি একটি কলামে লিখেছেন যে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের আগে কোচের চুক্তি নবায়ন করা একদমই ঠিক হয়নি। কারণ ফুটবল পারফরম্যান্সের চেয়ে ফলাফলের ওপর বেশি নির্ভর করে।
রোমারিও কোচের খেলোয়াড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে ব্রুনো গিমারাইসকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি বুঝতে পারেননি। তার মতে, এই পরিবর্তনের পর ব্রাজিলের মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় নরওয়ের হাতে, যার পূর্ণ সুবিধা নিয়ে আর্লিং হলান্ডরা ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়।
মন্তব্য করুন