
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং পূর্বাঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ খুরাইস এলাকায় জ্বালানি খাতের জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান আরামকোর একাধিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। রোববার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রথম বাক্যেই এই বড় আন্তর্জাতিক সংঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা বিশ্ব রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর দখলে থাকা বিভিন্ন এলাকা পুনর্দখলের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দেশটির সরকার নতুন সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে সম্প্রতি হুথিদের অগ্রগতির পর দেশটির প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রশাদ আল-আলিমি ইয়েমেন প্রজাতন্ত্রের অবশিষ্ট ভূখণ্ড উদ্ধার এবং সারা দেশে সরকারের কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনতে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন। দেশের ওপর থেকে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ অবসানের আগপর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
হুথি গোষ্ঠীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে সৌদি আরবে হামলার তথ্য নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন,
উভয় অভিযানই সফলভাবে লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে। অত্যন্ত নিখুঁতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে লক্ষ্যবস্তু করা আরামকোর স্থাপনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।২০১৪ সালে হুথিরা সানা দখল করার পর থেকেই ইয়েমেন সরকারকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে সৌদি আরব, আর হুথিদের সমর্থন জুগিয়ে আসছে ইরান।
দীর্ঘদিনের এ সংঘাত বিশ্বজুড়ে অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছে ইয়েমেনের অবস্থান হওয়ায় আঞ্চলিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও এর গভীর প্রভাব রয়েছে। তায়েজ ও এর আশপাশের এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর সরকারি বাহিনীর রুট বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে হুথিরা তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে, যা ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে বাড়তি চাপে ফেলেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব এবং ইয়েমেন সরকারের সম্মিলিত সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর রয়েছে। হুথিদের এই ধারাবাহিক হামলার জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং ইয়েমেন সরকারের পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে কী ধরনের কঠোর সামরিক বা কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তা সময় বলে দেবে। তবে এই সংঘাতময় পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলকে ফের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।