
আজ মঙ্গলবার ইসরায়েলে অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তায় পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ, লাখো ফিলিস্তিনির বাস্তুচ্যুতি এবং দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে আজকের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর দেশটিতে এটিই প্রথম জাতীয় নির্বাচন, যেখানে সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের এই নির্বাচন দেশটির দীর্ঘমেয়াদী রাজনীতিতে বড় ধরণের পরিবর্তন আনতে পারে। ১৯ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহু রাজনৈতিক কৌশলে অত্যন্ত দক্ষ হলেও এবারের নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন ইয়াশার পার্টির নেতা ও সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোট। জনমত জরিপে দুই পক্ষের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
নির্বাচনি প্রচারে নেতানিয়াহু তার যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনের ওপর জোর দিচ্ছেন। অন্যদিকে, আইজেনকোট নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ভীতি ছড়ানোর অভিযোগ এনেছেন। আইজেনকোট বলেছেন, জনগণ যাকে নির্বাচিত করবে, ট্রাম্প সেই নেতার সঙ্গেই কাজ করবেন। জোট গঠনের এই জটিল সমীকরণে কট্টর ডানপন্থী নেতাদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইসরায়েলের ১২০ সদস্যবিশিষ্ট পার্লামেন্ট বা নেসেটে প্রবেশ করতে হলে দলগুলোকে অন্তত ৩.২৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। চ্যানেল ১২-এর জরিপ অনুযায়ী আইজেনকোটের দল ২৩টি আসন পেয়ে এগিয়ে থাকলেও চ্যানেল ১৪-এর জরিপে নেতানিয়াহুর লিকুদ দল ৩০টি আসন পেতে পারে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসন এককভাবে পাওয়া কোনো দলের পক্ষেই সহজ নয়।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী, নির্বাচন শেষ হলেও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া বেশ দীর্ঘ হতে পারে। যদি কোনো দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারে, তবে পরবর্তী সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। ফিলিস্তিনি সংকটের এই মুহূর্তে এই নির্বাচনের ফলাফল মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।