|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ

ডেঙ্গুর টিকা কিউডেঙ্গা: ট্রায়াল নাকি সরাসরি অনুমোদন নিয়ে ভাবছে সরকার

0 শেয়ার
ডেঙ্গুর টিকা কিউডেঙ্গা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চলছে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা।
ডেঙ্গুর টিকা কিউডেঙ্গা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চলছে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা।
সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ছাড়ানোর পর টিকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
  • বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃত কিউডেঙ্গা টিকা ব্যবহারে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে।
  • ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনা বা বিদ্যমান গবেষণা পর্যালোচনা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করবে সরকার।

দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ইতোমধ্যে এক লাখ ছাড়িয়েছে এবং প্রাণহানি তিনশো ছাড়িয়ে গেছে। এমতাবস্থায় ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায় হিসেবে জাপানি কোম্পানি টাকেডার তৈরি কিউডেঙ্গা টিকা নিয়ে জনস্বাস্থ্য মহলে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই টিকাকে স্বীকৃতি দিলেও বাংলাদেশ সরকার টিকাটি সরাসরি আমদানির আগে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনা করা হবে, নাকি বিদ্যমান গবেষণা পর্যালোচনা করা হবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টিকার অনুমোদন অবশ্যই এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হবে।

ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৫৪ রোগী

চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত জানিয়েছেন, দেশের মানুষের মধ্যে টিকাটি কীভাবে কাজ করবে তা বুঝতে ভাইরোলজি ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বিশেষজ্ঞদের নিয়ে শিগগির একটি বিশেষ বৈঠক ডাকা হবে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, টিকার ব্যয় বেশি হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও গ্যাভির সঙ্গে আলোচনা করে আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অনুসরণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জাতীয় কারিগরি ও টেকনিক্যাল কমিটি বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে ওষুধ প্রশাসন শাখাকে লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সুপারিশ করবে।

ডেঙ্গু জ্বরের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা বা অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। টিকা বা ভ্যাকসিনই ডেঙ্গু প্রতিরোধের একমাত্র কার্যকর ব্যবস্থা। কিউডেঙ্গা টিকাটি আগে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকুক বা না থাকুক, উভয় ক্ষেত্রেই চার বছর থেকে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত নিরাপদে দেওয়া যায়। - অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ, প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিজ্ঞান সাময়িকী দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ-এর তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় দেখা গেছে কিউডেঙ্গা টিকা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৮০ শতাংশ এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি ৯৫ শতাংশ কমিয়ে আনে। নেদারল্যান্ডসের টিকা উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ও ইমিউনোলজিস্ট ড. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর মানদণ্ড পেরিয়ে অনুমোদিত এই টিকাটি ব্রাজিল ও ফিলিপাইনের মতো ডেঙ্গুপ্রবণ দেশে সফলভাবে পরীক্ষিত হয়েছে এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত কম।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

টিকা বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম বারী উল্লেখ করেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে বিশ্বের ৪৪টি দেশে বর্তমানে ডেঙ্গুর টিকা ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার বা বেসরকারি খাতের মাধ্যমে এটি দ্রুত দেশে আনা উচিত। তবে পর্যাপ্ত প্রমাণ ও বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন ছাড়া ব্যাপকভাবে টিকা ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমান প্রাদুর্ভাবে এটি তাৎক্ষণিক বড় প্রভাব না ফেললেও আগামী বছরগুলোতে সংক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ ও জাতীয় কারিগরি কমিটির প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে দেশে এই জীবনরক্ষাকারী টিকা চালুর চূড়ান্ত সময়সীমা।

Dhaka Story
Dhaka Storyভেরিফাইড

ঢাকা স্টোরি সততা ও সত্যতা যাচাই নীতিমালার অধীনে খবর প্রকাশ করে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজ্ঞাপন

Advertisement
Advertisement
বিজ্ঞাপন
Advertisement
Dhaka Story
ঢাকা স্টোরি
তাত্ক্ষণিক নিউজ আপডেট

ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।