
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মাদকাসক্ত ছেলের হাত থেকে মাকে বাঁচাতে গিয়ে সুধা রাণী মন্ডল (৫৫) নামের এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (আজ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্যামনগর পৌরসভা সদরের পারবাধঘাটা গ্রামে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘাতকের দায়ে জখম হয়েছেন অভিযুক্তের মা ও চাচাত ভাই। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত রমেশ মন্ডলকে (৩০) আটক করে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত রমেশ মন্ডল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। ঘটনার দিন সকালে মাদক কেনার টাকার জন্য সে তার মা কমলা রাণী মন্ডলের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে রমেশ হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে তার মায়ের ওপর চওড়াও হয়। মায়ের চিৎকারে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন প্রতিবেশী চাচি সুধা রাণী মন্ডল এবং ঘাতকের ভাই সমীর কুমার মন্ডল। এ সময় রমেশ তাদের দুজনকেও এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযুক্তের মা কমলা রাণী মন্ডল জানান, তার ছেলের মাদকের আসক্তি পরিবারের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছিল। টাকা না পেয়ে সে এই নৃশংসতা চালায়।
আমার ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে আমার দেওরের স্ত্রী সুধা রানী প্রাণ হারিয়েছেন। সে আমার আরেক ছেলেকে জখম করেছে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুধা রাণী মন্ডলকে মৃত ঘোষণা করেন।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা চলাকালীন আহত সমীর কুমার মন্ডলের অবস্থার অবনতি হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অন্যদিকে, ঘটনার পরপরই ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা ঘাতক রমেশ মন্ডলকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, অভিযুক্ত রমেশ মন্ডলকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।