|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ

পৃথিবীর ভরকেন্দ্র বদলে যাচ্ছে, নেভিগেশনে বড় ত্রুটির শঙ্কা

0 শেয়ার
পৃথিবীর ভরকেন্দ্র বদলে যাচ্ছে, নেভিগেশনে বড় ত্রুটির শঙ্কা
পৃথিবীর ভরকেন্দ্র বদলে যাচ্ছে, নেভিগেশনে বড় ত্রুটির শঙ্কা
সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • পানি, বরফ ও বায়ুর ওজনের তারতম্যে পৃথিবীর ভরকেন্দ্র বদলে যাচ্ছে।
  • নাসার গবেষকদের মতে এটি স্যাটেলাইট নেভিগেশনে ত্রুটি ঘটাতে পারে।
  • জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই ভৌগোলিক পরিবর্তন আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে।

পানি, বরফ ও বায়ুর ওজনের তারতম্যের কারণে পৃথিবীর ভরকেন্দ্র ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে, যা আধুনিক স্যাটেলাইট পজিশনিং ও নেভিগেশন সিস্টেমের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার গবেষকেরা। নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির গবেষকদের মতে, পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উপাদানগুলোর গতিপ্রকৃতির পরিবর্তনের ফলে এই ভৌগোলিক ও ভূতাত্ত্বিক রূপান্তর ঘটছে।

হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা জাহাজে বহিরাগত প্রাণীর বিস্তার, ঝুঁকির মুখে বৈশ্বিক জলবায়ু

গবেষকরা জানিয়েছেন, পৃথিবীর ভরকেন্দ্র ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্থান পরিবর্তন করে। পানি, বরফ ও বাতাসের ওজনের চাপে গ্রহের অভ্যন্তরে প্রতিনিয়ত এই পরিবর্তন সংঘটিত হয়। এর ফলে পৃথিবীর ভরকেন্দ্র তার নিজস্ব জ্যামিতিক কেন্দ্র থেকে প্রায় কয়েক মিলিমিটার পর্যন্ত নড়ে ওঠে। সামান্য এই পরিবর্তনও আধুনিক বিশ্বের অত্যন্ত নিখুঁত ম্যাপিং ও নেভিগেশন ব্যবস্থায় ত্রুটি ঘটাতে পারে।

স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পৃথিবীর ভরকেন্দ্রের পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন যে, বিভিন্ন অঞ্চলে পানির পরিমাণের তারতম্যই এই পরিবর্তনের মূল কারণ। উদাহরণস্বরূপ, মার্চ মাসে উত্তর আমেরিকা ও ইউরেশিয়ায় তুষার জমার কারণে ভরকেন্দ্র উত্তর মেরুর দিকে প্রায় তিন মিলিমিটার সরে গেছে। আবার এপ্রিলে আমাজন নদী অববাহিকায় বৃষ্টির পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভরকেন্দ্র দক্ষিণ আমেরিকার দিকে আড়াই মিলিমিটারের মতো ঝুঁকে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

গ্রহের অভ্যন্তরীণ উপাদান ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর ভরকেন্দ্র তার নির্দিষ্ট স্থান থেকে সরে যাচ্ছে। এই পরিবর্তন আমাদের নিখুঁত নেভিগেশন ও ম্যাপিং প্রযুক্তির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। - জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি গবেষক দল

উত্তর মেরুর স্থানান্তর ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

প্রধান গবেষক ডোনাল্ড আরগাস জানিয়েছেন, ভরকেন্দ্রের পাশাপাশি উত্তর মেরুও ক্রমাগত তার স্থান পরিবর্তন করে চলেছে। হিমবাহ ও বরফ গলে যাওয়ার কারণে এই মেরু পরিবর্তন ত্বরান্বিত হচ্ছে, যা একুশ শতকের শেষ নাগাদ অনেক দূর সরে যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন বর্তমান হারে অব্যাহত থাকলে এই পরিবর্তনের মাত্রা আরও দ্রুততর হবে এবং তা পৃথিবীর পরিবেশগত ভারসাম্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদরা স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেমে এই ভরকেন্দ্র বিচ্যুতির বিষয়টি যুক্ত করার ওপর জোর দিচ্ছেন। আধুনিক প্রযুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভূতাত্ত্বিক এই পরিবর্তন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। আগামী দিনে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বৈশ্বিক পদক্ষেপ না বাড়লে এই ধরনের ভূ-অবকাঠামোগত পরিবর্তন আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

Dhaka Story
Dhaka Storyভেরিফাইড

ঢাকা স্টোরি সততা ও সত্যতা যাচাই নীতিমালার অধীনে খবর প্রকাশ করে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজ্ঞাপন

Advertisement
Advertisement
বিজ্ঞাপন
Advertisement
Dhaka Story
ঢাকা স্টোরি
তাত্ক্ষণিক নিউজ আপডেট

ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।