
পাকিস্তানের রাজনীতি গত তিন বছর ধরে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান-কে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। গত ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট দুই দিনের মধ্যে ইমরান খানকে ইসলামাবাদের হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিলেও, শাহবাজ শরিফ সরকার সেই আদেশ উপেক্ষা করে তাঁকে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে নেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে এবং কেন্দ্রীয় সরকার সেখানে গভর্নরের শাসন জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইমরানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা ও খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে লংমার্চের ঘোষণা দেন। কেন্দ্রীয় সরকার এই লংমার্চ ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির পথ বেছে নেয়। মন্ত্রিসভার বৈঠকে আফ্রিদিকে সন্ত্রাসীদের সহায়তাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়, যা দেশটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকটের ইতিহাসকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।
পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, অতীতেও বিভিন্ন প্রদেশে নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে গভর্নরের শাসন জারির বেদনাদায়ক ইতিহাস রয়েছে। ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানে এ কে ফজলুল হককে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং ১৯৭০ সালে নির্বাচন পরবর্তী সংকট থেকে শুরু করে ১৯৭৩ সালে বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ মেঙ্গলের সরকারকে বরখাস্ত করার মতো ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটছে বর্তমান প্রজন্মেও। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে এসব দমনমূলক নীতি শেষ পর্যন্ত দেশের জন্য সুফল বয়ে আনেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান শাহবাজ শরিফ সরকার ইমরান খানভীতিতে ভুগছে এবং তারা নওয়াজ শরিফের মতো ইমরানকেও বিদেশে পাড়ি জমানোর সুযোগ দিতে চাইলেও ইমরান খান তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। বর্তমান সরকারকে বৈশ্বিক সূচকে কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ভারত ও আফগানিস্তানের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং দেশের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখেও কেন্দ্রীয় সরকার রাজনৈতিক বিরোধ মেটানোর পরিবর্তে দমনপীড়নের নীতি অনুসরণ করছে।
সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় দেশের সব রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হামিদ মির তাঁর বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান সরকারকে ইমরান খানভীতি থেকে বেরিয়ে এসে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে, অন্যথায় এই সংকট পাকিস্তানকে আরও গভীর অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেবে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।