
আর্জেন্টিনা ম্যাচের পর রেফারিং নিয়ে তীব্র সমালোচনা এবং আপত্তিকর মন্তব্য করায় মিশরের কোচ হোসাম হাসান ও ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকোকে নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা। সোমবার মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৩-২ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পরই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়েছিল।
চলতি টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল মিশর। তবে খেলার শেষদিকে রেফারিংয়ের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন মিশরীয় শিবির। বিশেষ করে জিকোর একটি গোল বাতিল হওয়া এবং পেনাল্টির আবেদন নাকচ হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন কোচ হোসাম হাসান ও ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো। ম্যাচ শেষে তারা সরাসরি রেফারিংয়ের ভুলকে মিশরের বিদায়ের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি এই ঘটনার পর কঠোর অবস্থান নিয়েছে। শাস্তি হিসেবে ৬০ বছর বয়সী কোচ হোসাম হাসানকে তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি কোচের যমজ ভাই ও দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসানকেও তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ম্যাচ শেষে রেফারিকে অপমান করার দায়ে তুলনামূলক দীর্ঘ মেয়াদে অর্থাৎ পাঁচ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো। এর ফলে আগামী জুন পর্যন্ত মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে এই ফুটবলারকে।
ফিফার রেফারিং প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা ম্যাচ পরিচালনার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়ে এর আগে সতর্ক করেছিলেন যে, রেফারিদের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক অভিযোগ তাদের ও তাদের পরিবারকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। ফিফার এই নিষেধাজ্ঞার ফলে আসন্ন নভেম্বরে মালাউইয়ের বিপক্ষে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস বাছাইপর্বের ম্যাচ এবং আগামী মার্চের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে জিকোকে পাবে না মিশর।
এদিকে ফিফার এই সিদ্ধান্তের পর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিস্তারিত কারণ ও নথিপত্র চেয়েছে তারা। সেই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।