
সৌদি আরবের রিয়াদে বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল-সৌদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং হুতিদের হামলা নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রোববার টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক সংকট নিরসনে সামরিক পদ্ধতির বদলে রাজনৈতিক সমাধানের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কয়েক দফা প্রাণঘাতী হামলায় ইতোমধ্যে ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতির পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইয়েমেনে মার্কিন ভূমিকার পাশাপাশি ইরানের ওপর নতুন করে হামলার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার কথা জানিয়েছেন। দীর্ঘদিনের বৈরিতা সত্ত্বেও ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
ফোনালাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, অঞ্চলের সংকটগুলোর কোনো সামরিক সমাধান নেই। কেবল ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষতার ওপর ভিত্তি করে আলোচনা মাধ্যমেই এই সংঘাতের অবসান ঘটানো সম্ভব। তিনি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ শুরু করতে এবং একটি স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জোর দিয়ে বলেছেন, রাজনৈতিক সমাধানকে উপেক্ষা করে সামরিক পদ্ধতির ওপর জোর দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। অঞ্চলের সংকটগুলোর কোনো সামরিক সমাধান নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের জন্য ইরানের এই মধ্যস্থতার প্রস্তাব গ্রহণ করা বেশ জটিল। রিয়াদের দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো, হুতিদের ওপর তেহরানের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে এবং সৌদি আরবে হামলা বন্ধ করার চাবিকাঠি ইরানের হাতেই রয়েছে। তবে ইরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করে আসছে যে, হুতি বিদ্রোহীরা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিজেরাই গ্রহণ করে। এর আগে গত মার্চে প্রিন্স ফয়সাল ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, সৌদি আরব ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোতে হামলার বিষয়ে তাদের সহ্যসীমা সীমিত। ফলে তেহরানের এই প্রস্তাব রিয়াদ কতটা গুরুত্বের সঙ্গে নেবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা সমীকরণ চলছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ফোনালাপ মাঠপর্যায়ে কোনো বাস্তব রূপ নেবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। সৌদি আরব এটিকে একটি কূটনৈতিক কৌশল হিসেবে বিবেচনা করে হুতিদের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানাতে পারে। অন্যদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলোকে বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভর না করে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছে ইরান। মার্কিন ও পশ্চিমা প্রভাবের বাইরে গিয়ে আঞ্চলিক সমাধান খোঁজার এই নীতি তেহরানের দীর্ঘদিনের অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ। তবে মুখের কথা থেকে বাস্তবে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।