সম্প্রতি প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি এবং 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-এর টানা আন্দোলনের মুখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরপরই এই বড় গ্রেপ্তারের খবর সামনে এলো।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিজেন্দ্র গুপ্ত শুধু নিট পরীক্ষাই নয়, দেশজুড়ে একটি বিশাল প্রশ্নফাঁস সিন্ডিকেট চালাত। গত ২৮ জুন মহারাষ্ট্রে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার আগের দিন প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষাটি বাতিল করা হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই বিজেন্দ্র পলাতক ছিল। এর আগে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার স্ত্রীসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহারাষ্ট্রের থানে জেলার ভিওয়ান্ডি থানা পুলিশ ও বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) বিহারে যৌথ অভিযান চালিয়ে বিজেন্দ্রকে আটক করে। অভিযান চলাকালে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইন্দ্রজিৎ সিং ওরফে পিকু নামের আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
যেভাবে ফাঁস হতো প্রশ্ন এর আগে গত ৫ জুলাই শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস মামলায় আগ্রার একটি প্রিন্টিং প্রেসের তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছিল মহারাষ্ট্র পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, নরেশকুমার মহোরে নামে এক কর্মী ছাপাখানা থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস করতেন। এরপর তা সঞ্জয়কুমার শর্মা ও সোনু কুমার নামের দুজনের হাত ঘুরে বিজেন্দ্রর কাছে পৌঁছাত। সবশেষে বিজেন্দ্র তার দেশব্যাপী বিস্তৃত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সেই প্রশ্নপত্র পরীক্ষার্থীদের কাছে ছড়িয়ে দিত।
গ্রেপ্তারের পর বিজেন্দ্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিমানে করে পুনে হয়ে ভিওয়ান্ডিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পুলিশের ধারণা, তাকে রিমান্ডে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ভারতজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রশ্নফাঁস চক্রের বৃহত্তর নেটওয়ার্ক ও এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে।
মন্তব্য করুন