
রাজনৈতিক চমক এবং সামরিক হস্তক্ষেপের দীর্ঘ ইতিহাস থাকা পাকিস্তানের রাজনীতি বর্তমানে এক গভীর সংকট ও নতুন বিতর্কের মুখে পড়েছে। দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় কোনো প্রধানমন্ত্রীই কখনো পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। এর মধ্যেই বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সশস্ত্র হামলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং নতুন প্রদেশ গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। পাকিস্তান ইকোনমিক সামিট ২০২৬ এ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির বক্তব্য এই বিতর্ককে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
দেশের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মধ্যস্থতার ভূমিকা নিয়ে গর্ব করলেও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। বালুচ বিদ্রোহী ও তেহরিক ই তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেন, দেশের বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই মন্ত্রীর এমন বক্তব্যকে সামরিক কর্তৃপক্ষের চিন্তারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সব রাজনৈতিক দলকে একটি কক্ষে একসঙ্গে বসতে হবে, এক দিন, এক মাস কিংবা এক বছর, যত সময়ই লাগুক। নতুন প্রশাসনিক একক ও প্রদেশসহ দেশের প্রতিটি সমস্যার নিষ্পত্তি করতে হবে তাদের। - মহসিন নাকভি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পাকিস্তান
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর দেশটিতে নতুন প্রশাসনিক একক ও প্রদেশ গঠনের পুরনো বিতর্ক নতুন করে দানা বেঁধেছে। এর মধ্যেই পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ দাবি করেছেন যে, প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে প্রতিবেশী প্রদেশগুলো থেকেই পাঞ্জাবে বেশি সন্ত্রাসী হুমকি আসছে। তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। খাইবার পাখতুনখাওয়ার পিটিআই নেতৃত্বাধীন সরকার এই মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে জানিয়েছে যে, সমস্যা প্রতিবেশী প্রদেশে নয়, বরং পাঞ্জাব সরকারের মানসিকতায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব মন্তব্যের পেছনে দুটি সম্ভাব্য কারণ রয়েছে। প্রথমত, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী দেশের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলা করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সশস্ত্র হামলা দমনে সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো কৌশল নেই। ফলে খাইবার পাখতুনখাওয়ার সরকারকে কোণঠাসা করার নতুন কোনো রাজনৈতিক ছক কষা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের রাজনীতিতে তীব্র সংকট: নতুন প্রদেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক
আজকের দিনেও পাকিস্তানের অভিজাত শাসকশ্রেণির অভ্যন্তরীণ বা পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা যায় না। অতীতে সামরিক স্বৈরশাসকদের পৃষ্ঠপোষকতায় বেড়ে ওঠা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আজ খোদ দেশটির জন্যই বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নীতিনির্ধারকরা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিলে, এসব বহুমুখী সংকট পাকিস্তানকে দীর্ঘ সময় ধরে তাড়া করে ফিরবে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।