
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরপর দুই দিন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। রোববার (১১ অক্টোবর) চালানো দ্বিতীয় দফার এই হামলায় অন্তত একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এর আগে শনিবার একই বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন। গত জুলাই মাসে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলে সহিংসতা চরম আকার ধারণ করেছে।
সৌদি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, রোববার কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর যাত্রীদের একটি টার্মিনালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, এই হামলায় এক পাকিস্তানি বাসিন্দা প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে শনিবারের হামলায় নিহতদের মধ্যে দুই জন বাংলাদেশি এবং চার জন সৌদি নাগরিকসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, মিসর ও ভারতের নাগরিকরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
হুথি বাহিনীর সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এই জোড়া হামলার দায় স্বীকার করে এক সতর্কবার্তায় বলেছেন, মক্কা ও মদিনা ব্যতীত সৌদি আরবের সব বিমানবন্দর ও আকাশসীমা তাদের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। ইয়েমেনের সানা বিমানবন্দরে সম্প্রতি সৌদি জোটের বিমান হামলার জবাবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। অন্যদিকে, সৌদি জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এই হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বর্ণনা করে কড়া জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এই পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
২০২২ সালে হুথি ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি জুলাই মাসে ভেঙে যাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভূরাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমানে হুথিরা ইয়েমেনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এলাকা এবং দেশের ৮০ শতাংশ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করছে। সৌদি আরব আশঙ্কা করছে যে, এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আধিপত্যের ফলে তাদের দক্ষিণ সীমান্তে একটি ইরানি পুতুল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি প্রশাসনের মধ্যে সংলাপ সহজতর করতে তেহরান সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
সৌদি আরবের জ্বালানি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন এই সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। তবে হুথিদের পক্ষ থেকে বিমানবন্দর ছাড়াও বিভিন্ন তেল স্থাপনাতে হামলা চালানোর নতুন হুমকির পর উপসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত ঝুঁকি আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সৌদি সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: জ্বালানিনিরাপত্তায় সৌদির দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।