
ঢাকা: বিয়ের সময় কিংবা বিয়ে বজায় রাখার শর্ত ছাড়া কেবল ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে অর্থ দাবি করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় 'যৌতুকের' সংজ্ঞায় পড়ে না বলে স্পষ্ট রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। মো. রাসেল উদ্দিন বনাম রাষ্ট্র ও অন্য একজন মামলায় ফৌজদারি আপিল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি মো. সেলিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই পর্যবেক্ষণ দেন। গত ৩ আগস্ট দেওয়া ১২ পৃষ্ঠার এই পূর্ণাঙ্গ রায়টি সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী মো. রাসেল উদ্দিনের সঙ্গে ইসমত আরা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় রাসেল তাঁর ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। স্ত্রীর অভিযোগ, ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এই ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারায় মামলা করা হয়। কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ বিচারিক প্রক্রة শেষে ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর রাসেলকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরে বিচারিক আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন রাসেল উদ্দিন।
কনেপক্ষের কাছে শুধু ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হিসেবে গণ্য হবে না। তখনই তা যৌতুক হবে, যদি বিয়ের সময় অথবা সংসারজীবন চলাকালে টাকা দাবি করা হয় এবং ওই অর্থ না দিলে ডিভোর্স বা সংসার চালিয়ে না নেওয়ার শর্ত থাকে। শর্ত ছাড়া ব্যবসা বা অন্য কোনো কারণে টাকা চাওয়া হলে তা যৌতুকের সংজ্ঞায় আসে না। - আইনজীবী আল রেজা মো. আমির
আইনজীবীদের মতে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২(ঞ) ধারা অনুযায়ী, বিয়ের সময় বা দাম্পত্য সম্পর্ক চলমান রাখার শর্তে বর বা তাঁর পরিবার যে অর্থ বা সম্পদ দাবি করে, কেবল সেটাই যৌতুক হিসেবে বিবেচিত হয়। বর্তমান মামলায় প্রমাণিত হয়েছে যে আপিলকারী ব্যবসার জন্য টাকা চেয়েছিল, কিন্তু সেই অর্থ না দিলে দাম্পত্য সম্পর্ক ছিন্ন করার কোনো শর্ত বা হুমকি দেওয়া হয়নি। এছাড়া ভুক্তভোগী স্ত্রীর শরীরে আঘাতের বিষয়ে মৌখিক সাক্ষ্য, চিকিৎসকের সাক্ষ্য ও সনদের মধ্যে অসংগতি থাকায় আদালতের কাছে অভিযোগের সত্যতা সন্দেহজনক প্রতীয়মান হয়। রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে যৌতুক দাবির অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত আপিল মঞ্জুর করেন।
এই রায়ের ফলে দেশের বিচারিক অঙ্গনে যৌতুকের মামলার ক্ষেত্রে একটি নতুন আইনি স্ট্যান্ডার্ড তৈরি হলো, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলাগুলোর ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনি বিশেষজ্ঞরা। বিচারিক আদালতের রায় বাতিল করে আপিলকারী রাসেল উদ্দিনকে এই মামলায় বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।