
ইসলামে বিবাহ শুধু একটি সাধারণ সামাজিক চুক্তি কিংবা মানসিক আবেগের বিষয় নয়; এটি একটি মহান ইবাদত এবং পবিত্র আমানত। পবিত্র কোরআনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে একটি সুদৃঢ় অঙ্গীকার হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। একটি বরকতময় ও শান্তিময় দাম্পত্য জীবনের জন্য ইসলাম শুধু বয়সের প্রাপ্তিকে যথেষ্ট মনে করে না; বরং আত্মিক, মানসিক ও ফিকহি প্রস্তুতির ওপর বিশেষ জোর দেয়। বিবাহে পদার্পণ করার পূর্বে তাই একজন মুমিনের নিজের কাছে মৌলিক কিছু প্রশ্ন ও তার প্রস্তুতি নিশ্চিত করা আবশ্যক।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) যুবসমাজকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, হে যুবসমাজ, তোমাদের মধ্যে যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিবাহ করে। কারণ বিবাহ চোখের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে সংযত রাখে। ইসলামি ফিকহের পরিভাষায় সামর্থ্য বলতে শুধু শারীরিক সক্ষমতা বা অর্থোপার্জন বোঝায় না, বরং এর পরিধি আরও ব্যাপক।
হে যুবসমাজ, তোমাদের মধ্যে যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিবাহ করে। কারণ বিবাহ চোখের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে সংযত রাখে। - মহানবী (সা.)
শাস্ত্রীয় বিশ্লেষণে বিয়ের পূর্বের প্রস্তুতি তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। প্রথমটি হলো আর্থিক দায়িত্ব, যার মধ্যে স্ত্রীর উপযুক্ত খোরপোষ, নিরাপদ বাসস্থান এবং দেনমোহর সম্মانی সাথে আদায় করার মতো হালাল আয়ের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। দ্বিতীয়টি হলো চরিত্রগত পরিপক্বতা, যেখানে রাগ ও আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ রেখে পরিবারকে শরিয়তের সীমারেখার মধ্যে পরিচালনা করার মানসিক শক্তি অর্জন করতে হয়। তৃতীয়ত, নিজেকে এবং হবু পরিবারকে কবিরা গুনাহ থেকে রক্ষা করার মানসিকতা থাকতে হবে।
ইসলামের দৃষ্টিতে কেবল পাত্র-পাত্রীর নামকাওয়াস্তে মুসলিম হওয়া যথেষ্ট নয়; বরং উভয়ের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আচরণের মধ্যে শরিয়তসম্মত সামঞ্জস্য বা কুফু থাকা আবশ্যক। হাদিসে দ্বীনদারি ও চরিত্রের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে না জেনে বিবাহে আবদ্ধ হওয়া অনেক সময় জুলুমের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই স্বামীর ওপর স্ত্রীর এবং স্ত্রীর ওপর স্বামীর হক সম্পর্কে সঠিক ইলম অর্জন করা অবশ্য কর্তব্য।
পরিশেষে, বিবাহের মতো পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পূর্বে এই তিনটি শাস্ত্রীয় মানদণ্ডে নিজেকে ঝালিয়ে নেওয়া এবং আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা ও দোয়ার মাধ্যমেই কেবল একটি বরকতময় দাম্পত্য জীবনের সূচনা করা সম্ভব। শরিয়ত নির্দেশিত হিকমত ও ধৈর্যের সাথে সংসার পরিচালনা করাই একজন মুমিনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।