
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম প্রায় ৩০ ঘণ্টা নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উদ্ধার হয়েছেন। সোমবার সকাল থেকে প্রশাসনিক ভবনে অবস্থান নেওয়া বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের হস্তক্ষেপে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে ক্যাম্পাস ছাড়ার আগে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কঠোর শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, তিনি আর চুয়েট ক্যাম্পাসে ফিরতে পারবেন না।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার সকাল পৌনে ৯টায়, যখন উপাচার্য প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তিনি বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকেছেন। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ভবনের ফটকে তালা লাগিয়ে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। আন্দোলনের ২২তম দিনে এসে এই পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে চরম অচলাবস্থা তৈরি করে। এর মধ্যেই ক্যাম্পাসের বাইরে শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসে হামলা ও এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা অসহযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। এদিকে, মঙ্গলবার বিকেলে উপাচার্য শারীরিক অসুস্থতার কথা জানালে জেলা প্রশাসন তাকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়।
উপাচার্যকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তাকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে কেবল একটি শর্তে, তিনি আর চুয়েটে ফিরবেন না। শিক্ষার্থীরা তাদের মূল দাবি হিসেবে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তারা প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বর্তমানে উপাচার্যকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চুয়েটের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কর্মবিরতিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির স্বাভাবিক পরিবেশ কবে ফিরবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
আরও পড়ুন: সহকর্মীর সঙ্গে স্ত্রীর কথা বলায় সন্দেহ, ভারতে পালানোর সময় গ্রেপ্তার
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।