
আশুলিয়ায় সহকর্মীদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলা নিয়ে সন্দেহের জেরে স্ত্রী বীথি আক্তারকে (২২) গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে স্বামী মজনু রাজাকে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত ১২ আগস্ট রাতে আশুলিয়ার জামগড়া রূপায়ণ মাঠ এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই মাস আত্মগোপনে থাকার পর গত ৬ অক্টোবর রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী খাসপাড়া বাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল সোমবার আদালতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন অভিযুক্ত মজনু।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে বীথি ও মজনুর বিয়ে হয়। তাঁরা আশুলিয়ার জামগড়া রূপায়ণ মাঠ এলাকায় বীথির মা-বাবার বাসার পাশেই একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। বীথি আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং মজনু কাশিমপুরের শৈলডুবি এলাকায় একটি অটোগ্যারেজে মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন। কর্মস্থলের সহকর্মীদের সঙ্গে বীথির কথাবার্তা ও মেলামেশা নিয়ে মজনুর মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। তাঁর ধারণা ছিল, তাঁর স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িত। এই সন্দেহ থেকেই তাঁদের মধ্যে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হতো।
গত ১২ আগস্ট রাত ১১টার দিকে গ্যারেজের কাজ শেষে বাসায় ফিরে পুরোনো বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান মজনু। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ক্ষিপ্ত হয়ে বীথিকে খাটে ফেলে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন তিনি। এরপর ঘর থেকে দ্রুত বেরিয়ে আত্মগোপনে চলে যান মজনু। পরদিন ১৩ আগস্ট ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বীথিকে ডাকতে গিয়ে তাঁর মা মেরিনা বেগম ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। ভেতরে ঢুকে খাটের ওপর গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় মেয়ের নিথর দেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
ঘটনার পরদিন নিহত বীথির বাবা বাদশা মিয়া বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে গত ১৬ আগস্ট মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় ঢাকা জেলা পিবিআই। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রংপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ধারাবাহিক অভিযান চালায় পিবিআইয়ের একটি তদন্ত দল। একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, অভিযুক্ত মজনু সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে গত ৬ অক্টোবর রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পারিবারিক বিরোধ ও অন্ধ সন্দেহের পরিণতি কতটা মারাত্মক হতে পারে, এই ঘটনা তারই একটি নির্মম উদাহরণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।