
দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ঝুলে থাকা এবং আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হওয়ার পর অবশেষে বাতিল করা হয়েছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বহুল আলোচিত ঢাকা-গাজীপুর বাস র্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রকল্প সম্পূর্ণ বাতিল করে পুরো অবকাঠামোকে সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে গাজীপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও জনবান্ধব করার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
২০১২ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে মূলত বিশেষ বাস চলাচলের জন্য দুই হাজার ৪০ কোটি টাকা প্রাথমিক বাজেটে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তিন দফায় সংশোধিত হয়ে এর ব্যয় চার হাজার ২৬৮ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা ও নকশাগত ত্রুটির কারণে প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি। উল্টো মাঝপথে ক্রেন দুর্ঘটনা ও বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার কারণে সাতটি অমূল্য প্রাণহানি ঘটে এবং সাধারণ মানুষকে ১৪ বছর ধরে চরম যানজটের ভোগান্তি পোহাতে হয়।
প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হকের নেতৃত্বাধীন বিশেষজ্ঞ দল একে পুরোপুরি বাতিল করে উন্নত মহাসড়ক হিসেবে ব্যবহারের সুপারিশ করেছিল। বিশেষজ্ঞরা একে দেশের অবকাঠামো পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে পদ্ধতিগত ব্যর্থতার উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। অন্যদিকে, প্রকল্পের ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ায় স্থানীয় সংগঠন 'গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়ন' এর পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত কুড়ি কিলোমিটার পথের নির্মিত স্টেশন ও লেন বিভাজক ভেঙে ফেলা হবে। একই সঙ্গে সড়কটিকে তিন থেকে ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়কে উন্নীত করা এবং এখানকার দুটি দুই লেনের উড়ালসড়ককে চার লেনে উন্নীত করা হবে। এছাড়া বিআরটি পরিচালনার জন্য গঠিত 'ঢাকা বাস র্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি' বন্ধ করে এর সমস্ত কার্যক্রম সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় ন্যস্ত করা হবে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ প্রভাব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট উন্নয়নসহযোগী সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আইনি জটিলতা নিরসন এবং প্রকল্প বন্ধের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি ১৫ দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে এবং কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসের ৩ তারিখের মধ্যে নিয়মিত প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক তদারকি ও দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই মহাসড়কটি চালু হলে উত্তরা ও গাজীপুর অঞ্চলের লাখো মানুষের যাতায়াত সহজ হবে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।