
নয়াদিল্লি: দীর্ঘ সাত দিন বিচারিক হেফাজত শেষে অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই শীর্ষনেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। বুধবার দিল্লির স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাদের হাজির করা হলে আদালত সওয়াল-জবাব শেষে এই দুই নেতাকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালীন পুলিশ তাদের আটক করেছিল।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৩ অক্টোবর। দিল্লির যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে সরিয়ে সেখানে যাবতীয় আন্দোলন নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর সৌরভ ও রাঙ্কার নেতৃত্বে সিজেপির একটি দল লোহার গেট টপকে সেখানে প্রবেশ করে। সেই সময় পুলিশ তাদের সঙ্গে থাকা অজিঙ্ক শিন্দে সহ অন্য নেতাকর্মীদেরও আটক করে। পরবর্তীতে শিন্দে সহ বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হলেও সৌরভ ও রাঙ্কাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
গ্রেফতারের পর গত ১৪ অক্টোবর তাদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয় এবং তাদের ঠিকানা হয় তিহাড় জেল। নির্ধারিত মেয়াদ শেষে পুনরায় হেফাজত বৃদ্ধি করা হলেও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার আদালতের রায়ে তারা কারামুক্ত হন। এই পুরো ঘটনাটি ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের স্থান নির্ধারণ নিয়ে প্রশাসনের কড়াকড়ির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই সিজেপি এই অবস্থান কর্মসূচি নিয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলন দমনের এই কৌশল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তবে আদালতের আদেশে দুই নেতার মুক্তি পাওয়ার ঘটনাকে দলের কর্মীরা একটি নৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছেন।
বর্তমানে দুই নেতাই তিহাড় জেল থেকে মুক্তি পেয়ে মুক্ত বাতাসে ফিরেছেন। সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং আন্দোলন নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য এই বিষয়ে নতুন কোনো বাড়তি বিধিনিষেধের কথা এখনও জানানো হয়নি।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।