
দেশের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের মধ্যে মৌলিক পঠন ও গণিত দক্ষতায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, ৭ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মাত্র ৫০ দশমিক ২ শতাংশের মৌলিক পড়ার দক্ষতা রয়েছে এবং ৩৯ দশমিক ২ শতাংশের রয়েছে মৌলিক গণিতের দক্ষতা। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে গিয়ে শ্রেণি পেরিয়ে ওপরে উঠলেও কাঙ্ক্ষিত শিখনফল অর্জনে পিছিয়ে থাকছে।
জাতীয় এই জরিপে আরও দেখা গেছে, শুধু পড়তে পারা নয়, বরং পড়া বুঝে নিজের ভাষায় বক্তব্য প্রকাশ করা, তথ্য মনে রাখা এবং মৌলিক অঙ্ক করার ক্ষেত্রেও শিশুরা পিছিয়ে পড়ছে। বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ সব মৌলিক পড়ার দক্ষতা অর্জন করেছে। এর পেছনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাব, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রতি মনোযোগের ঘাটতি এবং বাড়িতে পড়াশোনায় সহায়তার সীমাবদ্ধতার মতো কারণগুলো জড়িত রয়েছে।
বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্যমতে, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক মিলিয়ে প্রায় ৭৮ হাজার পদ খালি রয়েছে। বিশেষ করে গ্রাম, মফস্বল ও দুর্গম এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকসংকট পাঠদানকে মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। অনেক বিদ্যালয়ে নামমাত্র শিক্ষক দিয়ে দুই শিফটের কার্যক্রম চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
শিশুদের মৌলিক শিখনঘাটতি দূর করতে কেবল উপস্থিতি বা পরীক্ষা পাস নয়, বরং বাস্তব শেখার অগ্রগতি মূল্যায়নের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দক্ষতা অর্জনে পিছিয়ে থাকা শিশুদের জন্য অতিরিক্ত অনুশীলন, সহায়ক পাঠদান এবং ক্যাচ-আপ লার্নিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
শিশুরা শুধু স্কুলে যাবে না, বরং স্কুলে গিয়ে ঠিকমতো শিখবেও। শিখনঘাটতি পূরণে মাঠপর্যায়ে মনিটরিং এবং শিক্ষার্থীর শেখার ফলাফল যাচাই আরও কার্যকর করা হচ্ছে। - ববি হাজ্জাজ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষা পুরো শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তি হওয়ায় এ স্তরে ঘাটতি থেকে গেলে পরবর্তী মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। শহর ও গ্রামের পাশাপাশি ধনী-দরিদ্র পরিবারের শিশুদের শিক্ষার সুযোগের বৈষম্য দূর করে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত না করলে এই শিখনঘাটতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।
আরও পড়ুন: বিশ্বের নজরে বঙ্গোপসাগর, বাড়ছে কৌশলগত গুরুত্ব ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।