|
ঢাকা স্টোরি
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ

ডার্ক ওয়েবে গ্রাহকের তথ্য ফাঁসের কথা স্বীকার করল ভারতের স্টেট ব্যাংক

0 শেয়ার
মুম্বাইয়ে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার প্রধান শাখা
মুম্বাইয়ে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার প্রধান শাখা
সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • ডার্ক ওয়েবে গ্রাহকের তথ্য ছড়িয়ে পড়ার কথা স্টক এক্সচেঞ্জে জানিয়েছে ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।
  • প্রায় ৩,৭৫,০০০ রেকর্ডের প্রাথমিক বিশ্লেষণে ৩,৮৯৭ গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য মিলেছে।
  • ব্যাংক বলছে, মূল কার্যক্রমে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।
ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (এসবিআই) স্বীকার করেছে, তাদের কিছু গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য ডার্ক ওয়েবে ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) স্টক এক্সচেঞ্জে দেওয়া এক ফাইলিংয়ে ব্যাংকটি জানিয়েছে, তাদের কিছু তথ্য হারানোর ঘটনা ঘটেছে। ডার্ক ওয়েবে পাওয়া প্রায় ৩,৭৫,০০০ রেকর্ডের প্রাথমিক বিশ্লেষণে ৩,৮৯৭টি গ্রাহক রেকর্ডে ব্যক্তিগতভাবে শনাক্তযোগ্য তথ্য পাওয়া গেছে বলে ফাইলিংয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

ছড়িয়ে পড়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে গ্রাহকদের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর, জন্মতারিখ, নাম, লিঙ্গ, ইমেইল ঠিকানা ও বসবাসের ঠিকানা। এ ছাড়া রয়েছে শাখা ও সিআইএফ (কাস্টমার ইনফরমেশন ফাইল) শনাক্তকারী নম্বর, লিড আইডি এবং ঋণ ও লিড সংক্রান্ত রেকর্ডের নানা বিবরণসহ আরও কিছু ফাইল। এসবিআইয়ের গ্রাহক সংখ্যা ৫০ কোটির বেশি। সেই তুলনায় চিহ্নিত রেকর্ডের সংখ্যা খুবই কম হলেও তথ্যগুলো সংবেদনশীল হওয়ায় ব্যাংকটির গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তথ্য ফাঁসের বিষয়টি ব্যাংক নিজে ধরতে পারেনি। ১৬ অক্টোবর ব্যাংকের থ্রেট ইন্টেলিজেন্স সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, প্রতিরক্ষা সাইবার সংস্থা (ডিফেন্স সাইবার এজেন্সি) ও ভারতের কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (সার্ট-ইন) এসবিআইকে সতর্ক করে জানায়, ডার্ক ওয়েবে গ্রাহকের তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সেই সতর্কতার পাঁচ দিন পর বিষয়টি স্টক এক্সচেঞ্জে জানায় ব্যাংক। তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে সেবির প্রকাশনা বিধি অনুযায়ী বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ ও ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জকে এই তথ্য জানিয়েছে তারা।

ব্যাংক জানিয়েছে, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা সাইবার ঘটনা মোকাবিলা ও নিয়ন্ত্রণের প্রোটোকল চালু করেছে। সার্ট-ইন তালিকাভুক্ত একটি স্বাধীন সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঘটনার ব্যাপক মূল্যায়ন ও তদন্তের জন্য। ছড়িয়ে পড়া তথ্যগুলো আসল ও সম্পূর্ণ কিনা, কোথা থেকে এবং কতটা ছড়িয়েছে, আর গ্রাহক ও ব্যাংকের জন্য এর ঝুঁকি কতটা, তা নিশ্চিত হতে বিস্তারিত তদন্ত দরকার বলে এসবিআই জানিয়েছে। বিস্তারিত মূল্যায়ন এখন চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিকারমূলক ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও ফাইলিংয়ে বলা হয়েছে।

এসবিআই দাবি করেছে, এই ঘটনার কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব ব্যাংকের মূল ব্যবসায়িক কার্যক্রম, আর্থিক কর্মক্ষমতা বা ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতায় পড়েনি। মূল সেবাগুলো কোনো বিঘ্ন ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে চলছে বলে জানিয়েছে তারা। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ব্যাংক গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে বলেছে, গ্রাহকদের জমাকৃত অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে ফাইলিংয়ে তথ্য কীভাবে ব্যাংকের ব্যবস্থা থেকে বাইরে গেল, সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। বাকি রেকর্ডগুলোতে কী আছে এবং সেগুলো এসবিআইয়ের গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্কিত কিনা, তাও ফাইলিং থেকে স্পষ্ট নয়।

এরই মধ্যে ডার্ক ওয়েবে নিজেদের "সিরিয়াসিম" নামে পরিচয় দেওয়া একটি গোষ্ঠী দাবি করেছে, তাদের কাছে এসবিআইয়ের ৩,৭৫,০০০ সারির তথ্য ও ২,৭২২টি পিডিএফ নথি রয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এসব নথির মধ্যে ঋণের আবেদন ও হিসাব খোলার ফরমও আছে। সাইবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক অ্যাকাউন্টগুলো ১৬ অক্টোবরেই এই দাবির কথা সামনে আনে। তবে ব্যাংকের ফাইলিংয়ে এই নথিগুলোর কোনো উল্লেখ নেই।

ঘটনার পরপরই আক্রান্ত গ্রাহকদের জানানোর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডিজিটাল অধিকার সংগঠন ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (আইএফএফ) বলেছে, ব্যাংক স্টক এক্সচেঞ্জে বিনিয়োগকারীদের ঘটনাটি জানালেও যেসব গ্রাহকের তথ্য গেছে, তাদের সরাসরি কিছু জানায়নি। সংগঠনটির দাবি, প্রতিটি আক্রান্ত গ্রাহককে আর দেরি না করে এসএমএস, ইমেইল ও নিবন্ধিত ঠিকানায় চিঠি পাঠিয়ে কোন তথ্য ছড়িয়েছে এবং তাদের কী করণীয়, তা জানাতে হবে। পাশাপাশি একটি বিশেষ হেল্পলাইন ও অনলাইনে নিজের তথ্য আক্রান্ত কিনা যাচাই করার ব্যবস্থা চালুর দাবিও জানিয়েছে তারা।

রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে ব্যাংকটির ওপর। বিরোধী দল কংগ্রেসের মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান পবন খেরা এক্সে লিখেছেন, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো এসবিআই নিজে এই তথ্য ফাঁস ধরতেই পারেনি, বাইরের সংস্থাকে তাদের জানাতে হয়েছে যে গ্রাহকের তথ্য আগেই ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ হয়ে গেছে। তার অভিযোগ, যেসব গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য রক্ষা করতে ব্যাংক ব্যর্থ হয়েছে, তাদের এখনো কিছু জানানো হয়নি। খেরার ভাষায়, এসবিআই গ্রাহকদের কাছে জবাব দিতে বাধ্য এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

ভারতের ব্যাংক খাতে সাইবার ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাইবার ঝুঁকি সম্পর্কে বারবার সতর্ক করে আসছে। গত জুলাইয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক অব বরোদাও একই ধরনের তথ্য ফাঁসের ঘটনার কথা জানিয়েছিল। এসবিআইয়ের তদন্ত শেষ হলে এবং বাকি রেকর্ডগুলোর বিষয়বস্তু জানা গেলে এই ঘটনার আসল পরিধি স্পষ্ট হবে।
সাবস্ক্রিপশন চলছে জিওর রেকর্ড আইপিওতে, আবেদনের শেষ দিন ২৩ অক্টোবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Dhaka Story
Dhaka Storyভেরিফাইড

ঢাকা স্টোরি সততা ও সত্যতা যাচাই নীতিমালার অধীনে খবর প্রকাশ করে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Dhaka Story
ঢাকা স্টোরি
তাত্ক্ষণিক নিউজ আপডেট

ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।