|
ঢাকা স্টোরি
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ

সোশ্যাল মিডিয়া অ্যালার্টে ৪ হাজারের বেশি আত্মহত্যা ঠেকানোর দাবি উত্তর প্রদেশ পুলিশের

0 শেয়ার
উত্তর প্রদেশ পুলিশের সোশ্যাল মিডিয়া সেন্টার, লখনউ
উত্তর প্রদেশ পুলিশের সোশ্যাল মিডিয়া সেন্টার, লখনউ
সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে আত্মহত্যার ইঙ্গিত দেওয়া পোস্ট দেখলেই মেটা সতর্কবার্তা পাঠায় উত্তর প্রদেশ পুলিশের সদর দপ্তরে।
  • পুলিশের দাবি, এই অ্যালার্ট ব্যবস্থায় ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ৪ হাজার ৭১ জনকে বাঁচানো গেছে, অনেক ক্ষেত্রে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে লেগেছে মাত্র ৮ থেকে ১০ মিনিট।
সোশ্যাল মিডিয়ায় কারো আত্মহত্যার ইঙ্গিত পেলেই এখন আর তা উপেক্ষা করে না ভারতের উত্তর প্রদেশ পুলিশ। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার পাঠানো সতর্কবার্তার ভিত্তিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে একের পর এক মানুষকে বিপদ থেকে ফিরিয়ে আনার দাবি করেছে রাজ্যটির পুলিশ। পুলিশের দেওয়া সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত এই ব্যবস্থায় মোট ৪ হাজার ৭১ জনকে আত্মহত্যার চেষ্টা থেকে বাঁচানো হয়েছে।

এই ব্যবস্থা চালু হয় ২০২২ সালে, উত্তর প্রদেশ পুলিশ ও মেটার মধ্যে এক ধরনের যৌথ উদ্যোগ হিসেবে। ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে আত্মহত্যা সংক্রান্ত বা নিজের ক্ষতি করার ইঙ্গিতবাহী কোনো পোস্ট ধরা পড়লেই মেটা ইমেইল ও ফোনের মাধ্যমে সতর্কবার্তা পাঠায় পুলিশ সদর দপ্তরের সোশ্যাল মিডিয়া সেন্টারে। সতর্কবার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেন্টারের কর্মীরা ওই ব্যক্তির মোবাইল নম্বর ধরে তার অবস্থান শনাক্ত করেন এবং খবর পৌঁছে দেন সংশ্লিষ্ট থানা বা জেলা পুলিশের কাছে। তারপর স্থানীয় পুলিশের একটি দল ছুটে যায় ওই ঠিকানায়।

পুলিশের দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র ৮ থেকে ১০ মিনিট। শুধু উদ্ধার করেই থামে না পুলিশ, ওই ব্যক্তিকে মানসিকভাবে শান্ত করা, কাউন্সেলিং করা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত করে পরবর্তী সহায়তার ব্যবস্থা করাও এই উদ্যোগের অংশ। রাজ্যের পুলিশ মহাপরিদর্শক রাজীব কৃষ্ণ এ ধরনের সতর্কবার্তায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হিসাবটা বছর বছর বেড়েই চলেছে। পুলিশের আগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাঁচানো মানুষের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ১১ জন। পরের দশ দিনেই সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭১ এ। অর্থাৎ গড়ে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও এই ব্যবস্থায় কারো প্রাণ বাঁচছে বলে দাবি করছে পুলিশ।

সাম্প্রতিক দুটি ঘটনায় এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা দেখা গেছে স্পষ্টভাবে। গত ১৫ অক্টোবর রাজধানী লখনউয়ের সাদাতগঞ্জ এলাকায় এক ২৬ বছরের ডেলিভারি কর্মী পারিবারিক বিবাদে মানসিক চাপে ইনস্টাগ্রামে আত্মহত্যার ইঙ্গিত দেওয়া ভিডিও পোস্ট করেন। বিকেল ৩টা ৫১ মিনিটে মেটা সতর্কবার্তা পাঠায় সদর দপ্তরে, আর প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যে স্থানীয় পুলিশের একটি দল নদীর ঘাটের দিকে এগিয়ে যাওয়া ওই যুবকের কাছে পৌঁছে যায়। পরে তাকে নিরাপদে ফিরিয়ে এনে কাউন্সেলিং করা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়।

একইভাবে গাজিয়াবাদের লিংক রোড এলাকায় আর্থিক সংকটে ভোগা ২৪ বছরের এক যুবক ইনস্টাগ্রামে বার্তা দেন যে তিনি আর বাঁচতে চান না। ভোররাত ২টা ৭ মিনিটে মেটার সতর্কবার্তা আসে সদর দপ্তরে। অবস্থান শনাক্ত করে খবর পাঠানো হয় গাজিয়াবাদ পুলিশের কাছে, আর আট মিনিটের মধ্যে পুলিশের দল পৌঁছে যায় যুবকের বাড়িতে। ঘরে ফাঁস লাগানোর মতো পরিস্থিতি দেখে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে আসা হয়, পরে কাউন্সেলিংয়ের পর তিনি এমন পদক্ষেপ আর নেবেন না বলে আশ্বাস দেন।

অপরাধ দমন আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চেনা ভূমিকার বাইরে এই উদ্যোগ উত্তর প্রদেশ পুলিশকে একটা মানবিক মুখ দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। এই সোশ্যাল মিডিয়া সতর্কব্যবস্থা এরই মধ্যে স্বীকৃতিও পেয়েছে। উদ্যোগটি পেয়েছে স্কচ অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ এবং ইকোনমিক টাইমস গভটেক অ্যাওয়ার্ড ২০২৬। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন সমন্বয় সংকটে থাকা মানুষকে সময়মতো চিহ্নিত করে পাশে দাঁড়ানোর একটা নতুন পথ দেখাচ্ছে বলে মত বিশ্লেষকদের।

তবে একটা বিষয় স্পষ্ট করে বলা দরকার, এই ৪ হাজার ৭১ জনের হিসাব উত্তর প্রদেশ পুলিশের নিজস্ব সরকারি হিসাব, যা ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম পুলিশের বরাতে প্রকাশ করেছে। স্বতন্ত্রভাবে এই সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবু সময়মতো সতর্কবার্তা আর মিনিট দশেকের মধ্যে পৌঁছে যাওয়ার ঘটনাগুলো বারবার সামনে আসায়, প্রযুক্তিনির্ভর এই পুলিশি উদ্যোগ নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে অন্য রাজ্যগুলোতেও।
সাবস্ক্রিপশন চলছে জিওর রেকর্ড আইপিওতে, আবেদনের শেষ দিন ২৩ অক্টোবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Dhaka Story
Dhaka Storyভেরিফাইড

ঢাকা স্টোরি সততা ও সত্যতা যাচাই নীতিমালার অধীনে খবর প্রকাশ করে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Dhaka Story
ঢাকা স্টোরি
তাত্ক্ষণিক নিউজ আপডেট

ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।