সংক্ষেপে মূল তথ্য
- পায়ের স্ট্রেস ইনজুরিতে লম্বা সময় মাঠের বাইরে ভারতের অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া।
- প্রতিবেদনের দাবি, বেঙ্গালুরুতে রিহ্যাব চললেও ২০২৭ সালের আইপিএলের আগে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে তার ফেরা অনিশ্চিত।
- তিন সপ্তাহ পর জগিং শুরু আর তার পর আট সপ্তাহ ধরে ওয়ার্কলোড বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও ম্যাচ ফিট হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঠিক হয়নি।
ভারতের তারকা অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়ার মাঠে ফেরা নিয়ে বড়সড় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। একটি প্রতিবেদনের দাবি, পায়ের পেশির ভেতরের দিকের স্ট্রেস ইনজুরি কাটিয়ে উঠতে তার সময় লেগে যেতে পারে আগামী বছরের আইপিএল পর্যন্ত। অর্থাৎ সব ঠিকঠাক চললেও ২০২৭ সালের মার্চে শুরু হতে যাওয়া আইপিএলের আগে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ৩২ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডারকে নাও দেখা যেতে পারে। তবে এটা প্রতিবেদনের ভাষ্য, বোর্ড বা চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে ফেরার কোনো আনুষ্ঠানিক তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
ভারতের গণমাধ্যম দৈনিক জাগরণের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হার্দিক এখন বেঙ্গালুরুতে বিসিসিআইয়ের সেন্টার অব এক্সিলেন্সে ধাপে ধাপে সাজানো ফিটনেস কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় আছেন। গত সপ্তাহে তার চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করেছেন খ্যাতনামা ক্রীড়া চিকিৎসক দিনশ পারদিওয়ালা। আঘাতের জায়গায় যেন নতুন করে চাপ না পড়ে, সেভাবেই সতর্কভাবে এগোচ্ছে পুরো প্রক্রিয়াটা। এই খবর পরে নিউজ১৮, এনডিটিভিসহ একাধিক মাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
পুনর্বাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আরও প্রায় তিন সপ্তাহ পর হালকা জগিং শুরু করতে পারবেন হার্দিক। এর পরের আট সপ্তাহে ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে তার দৌড়ের ওয়ার্কলোড। পাশাপাশি চিকিৎসকদের পরামর্শে সতর্কতার সঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে শক্তি বাড়ানোর অনুশীলনও। শুধু এই হিসাব ধরলেও ধাপগুলো শেষ হতে বছর প্রায় ঘুরে যাবে, তার পরেও ম্যাচ খেলার মতো ফিটনেস ফিরে পেতে আলাদা সময় লাগবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটা হলো, পুরোপুরি ম্যাচ ফিট হয়ে হার্দিক কবে ফিরবেন, তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো ঠিক করা হয়নি। প্রতিবেদনগুলোতেও স্পষ্ট বলা হয়েছে, ফেরার দিনক্ষণ নির্ভর করবে পুনর্বাসনের প্রতিটি ধাপে তিনি কেমন সাড়া দেন তার ওপর। তাই আইপিএল ২০২৭ কে তার সম্ভাব্য ফেরার মঞ্চ বলা হলেও সেটা আপাতত জল্পনা আর হিসাবের ভিত্তিতেই বলা, নিশ্চিত কোনো সময়সূচি নয়।
এরই মধ্যে এটা নিশ্চিত যে, চলমান নিউজিল্যান্ড সফরের ভারতীয় দলে জায়গা হয়নি হার্দিকের। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দল নির্বাচনের সময় তার নাম আলোচনাতেই আসেনি। সামনে ডিসেম্বরে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাদা বলের সিরিজ শুরু হবে ১৩ ডিসেম্বর থেকে, তার পর জানুয়ারিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ। ফিটনেসের বর্তমান অবস্থা দেখে এই দুই সিরিজেও তার খেলার সম্ভাবনা খুবই কম বলেই মনে করা হচ্ছে। এমনকি ভারত এ দলের সিরিজেও তাকে রাখা হয়নি বলেও খবরে এসেছে।
হার্দিক শেষ প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলেছেন চলতি বছরের মে মাসে, আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের জার্সিতে। আর জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ ম্যাচ ছিল মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল। এর পর ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ, আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফর, জিম্বাবুয়ে সফর, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাদা বলের সিরিজসহ একের পর এক সিরিজে খেলতে পারেননি তিনি। আইপিএলের পরই সেরে ওঠার জন্য তিনি বেঙ্গালুরু গিয়েছিলেন, আগেভাগেই ফেরার আশা থাকলেও প্রতিবেদন অনুযায়ী মাঝপথে নতুন ধাক্কা লাগায় তার ফেরা আরও পিছিয়ে গেছে।
চোট বরাবরই হার্দিকের ক্যারিয়ারের বড় বাধা। ফিটনেসের কারণেই তিনি এখন শুধু সাদা বলের ক্রিকেট খেলেন, লম্বা সংস্করণ থেকে দূরে আছেন বহুদিন। ব্যাটে-বলে ভারতের সাদা বলের দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হলেও এই অনিশ্চয়তা দলের পরিকল্পনাকেও ভাবাচ্ছে। তবে শেষ কথা একটাই, হার্দিক কবে ফিরবেন সেটা এখন বলবে তার শরীর আর পুনর্বাসনের অগ্রগতিই। চিকিৎসকের সবুজ সংকেত না পাওয়া পর্যন্ত ২০২৭ আইপিএলের আগে তার ফেরা নিয়ে কোনো দাবিই চূড়ান্ত নয়।