সংক্ষেপে মূল তথ্য
- রেণুকাস্বামী হত্যা মামলায় জামিনের ওপর এক বছরের সীমাবদ্ধতার নির্দেশ বদলের আবেদন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি পর্যায়েই খারিজ হয়েছে কন্নড় তারকা দর্শন থুগুদীপার।
- আবেদনটি কোনো বেঞ্চের সামনেই ওঠেনি।
- এরপরই স্ত্রী বিজয়লক্ষ্মীর রহস্যময় ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ভাইরাল হয়ে ভক্তদের মধ্যে জল্পনা ছড়িয়েছে।
কন্নড় সিনেমার তারকা দর্শন থুগুদীপার আইনি লড়াইয়ে এলো নতুন ধাক্কা। রেণুকাস্বামী হত্যা মামলায় জামিন চাওয়ার ওপর আরোপিত এক বছরের সীমাবদ্ধতার আগের নির্দেশ বদলে দেওয়ার জন্য তিনি যে আবেদন করেছিলেন, তা ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি পর্যায়েই খারিজ হয়ে গেছে। আবেদনটি বিচারপতিদের কোনো বেঞ্চের সামনে শুনানির জন্যই ওঠেনি। আর এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই দর্শনের স্ত্রী বিজয়লক্ষ্মীর একটি রহস্যময় ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ভাইরাল হয়ে গেছে, যা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা।
আবেদনে দর্শন চেয়েছিলেন, আগের নির্দেশটি এমনভাবে স্পষ্ট বা সংশোধন করা হোক যাতে এক বছরের ওই পর্যবেক্ষণ তাকে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে, যেমন চিকিৎসা বা মানবিক কারণে, আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধা না দেয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি মনে করেছে, আবেদনটি টেকসইভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব নয়। তাই আবেদনটি গ্রহণই করা হয়নি, ফলে তা কোনো বিচারিক বেঞ্চের বিবেচনার জন্যও যায়নি। এর অর্থ, শীর্ষ আদালতের আগের নির্দেশই পুরোপুরি বলবৎ থাকল।
এই মামলায় চলতি বছরের শুরুতেই সুপ্রিম কোর্ট দর্শনকে জামিন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। একই সঙ্গে আদালত কর্ণাটক কর্তৃপক্ষকে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়, যাতে এক বছরের মধ্যে প্রায় ৬০ জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করা যায়। নির্দেশে বলা হয়েছিল, ওই সময়ের মধ্যে বিচারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হলে তারপর দর্শন আবার জামিনের আবেদন করতে পারবেন। সেই সীমাবদ্ধতাই এখনো কার্যকর রয়েছে, আর তার মধ্যেই ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির জন্য দরজা খোলার চেষ্টা ব্যর্থ হলো।
আইনি এই অগ্রগতির খবরের পরপরই ইনস্টাগ্রামে একটি ছোট্ট বার্তা দেন বিজয়লক্ষ্মী। বাংলায় তার ভাবার্থ দাঁড়ায়, কিছু পাওয়ার পর সেটাকে যত্নে রাখতে হয়, তা সে কোনো বস্তু হোক কিংবা কোনো মানুষ। পোস্টে তিনি কারো নাম নেননি, বার্তাটি কার উদ্দেশে তাও ব্যাখ্যা করেননি। তবু সময়ের মিলের কারণেই পোস্টটি মুহূর্তে ভাইরাল হয়। কেউ কেউ এটাকে কৃতজ্ঞতা আর সম্পর্কের প্রতি যত্নের সাধারণ শিক্ষা হিসেবে দেখছেন, আবার কারো কারো ধারণা, পরিবারের কঠিন সময়ের অনুভূতিই ফুটে উঠেছে এতে। তবে এসব ব্যাখ্যার কোনোটিরই আনুষ্ঠানিক ভিত্তি নেই, বিজয়লক্ষ্মী নিজে এ নিয়ে আর কিছু বলেননি।
এর আগে সহ-আসামি প্রদোষ এস রাওয়ের রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) হওয়া নিয়েও লড়াইয়ে হেরেছে দর্শন শিবির। বিচারিক আদালত গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রদোষ রাওকে ক্ষমা করে রাজসাক্ষী হওয়ার অনুমতি দিলে তার বিরুদ্ধে কর্ণাটক হাইকোর্টে আবেদন করেন বিজয়লক্ষ্মী। গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিচারপতি ভি শ্রীশানন্দ সেই আবেদন খারিজ করে দেন। হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ দেয়, রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন সংশ্লিষ্ট আসামি, আদালত ও প্রসিকিউশনের মধ্যকার বিষয়, এতে আপত্তি তোলার কোনো অধিকার কোনো সহ-আসামির নেই। তবে জেরার সময় রাজসাক্ষীকে প্রশ্ন করার স্বাধীনতা দর্শন পাবেন বলে জানায় আদালত।
রাজসাক্ষীর বিষয়টি সেখানেই থামেনি। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দর্শন ও বিজয়লক্ষ্মী সুপ্রিম কোর্টে মোট তিনটি আবেদন করেন, যার দুটি দর্শনের আর একটি বিজয়লক্ষ্মীর। হাইকোর্টের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে করা এই আবেদনগুলোতেও প্রদোষ রাওয়ের রাজসাক্ষী মর্যাদাই ছিল কেন্দ্রে। একের পর এক আইনি উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় মামলার লড়াইটা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে দর্শনের জন্য।
দর্শন বর্তমানে বিচারিক হেফাজতে রয়েছেন, আর রেণুকাস্বামী মামলার বিচার চলছে। কন্নড় চলচ্চিত্রে তার জনপ্রিয়তা আর অভিযোগের গুরুত্বের কারণে মামলাটি ঘিরে আগ্রহ কমেনি একটুও। এখন দেখার বিষয়, আদালতের নির্দেশিত সময়সীমার মধ্যে বিচার কতটা এগোয়, আর সেই অগ্রগতির ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে দর্শনের জামিনের ভবিষ্যৎ। তার আগ পর্যন্ত ভক্তদের আলোচনায় থাকছে স্ত্রীর সেই রহস্যময় পোস্টটিই।