সংক্ষেপে মূল তথ্য
- ভারতের পিএম কিসান সম্মান নিধি প্রকল্পের ২৪তম কিস্তির ২০০০ টাকা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কৃষকদের অ্যাকাউন্টে আসতে পারে বলে গণমাধ্যমে খবর।
- সরকারিভাবে তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি।
- টাকা পেতে ই-কেওয়াইসি, আধার সংযুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও হালনাগাদ জমির রেকর্ড থাকা বাধ্যতামূলক।
ভারতের কোটি কোটি কৃষকের অপেক্ষা এখন পিএম কিসান সম্মান নিধি প্রকল্পের ২৪তম কিস্তির দিকে। দেশটির গণমাধ্যমের খবর, আগস্ট থেকে নভেম্বর মেয়াদের এই কিস্তির ২০০০ টাকা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সুবিধাভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। চার মাস অন্তর টাকা ছাড়ার নিয়ম অনুযায়ী অক্টোবরের শেষ দিক থেকে এই কিস্তির সময় জানালা খুলে গেছে, তাই অক্টোবরের শেষ সপ্তাহেও টাকা ছাড়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি, সংক্ষেপে পিএম কিসান, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সবচেয়ে বড় কৃষক আয় সহায়তা প্রকল্প। ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি চালু হওয়া এই প্রকল্পে দেশের জমিধারী কৃষক পরিবারগুলো বছরে ৬০০০ টাকা করে পায়। টাকাটা আসে চার মাস পর পর তিনটি সমান কিস্তিতে, প্রতি কিস্তিতে ২০০০ টাকা। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি হস্তান্তর পদ্ধতিতে (ডিবিটি) অর্থ পৌঁছে যায় কৃষকের আধার সংযুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে।
সর্বশেষ ২৩তম কিস্তি ছাড়া হয়েছিল চলতি বছরের ২০ জুন। সেদিন পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার তারকেশ্বর থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আনুষ্ঠানিকভাবে টাকা ছাড়েন। ওই কিস্তিতে প্রায় ১৮ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা পৌঁছেছিল ৯ কোটি ৪৪ লাখ কৃষকের অ্যাকাউন্টে, যাদের মধ্যে ২ কোটি ১৮ লাখের বেশি নারী কৃষক ছিলেন। ২৪তম কিস্তিতেও সাড়ে নয় কোটির বেশি কৃষক পরিবার এই টাকা পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট প্রায় সাড়ে চার লাখ কোটি টাকা কৃষকদের কাছে পৌঁছেছে।
তারিখ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে নানা জল্পনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২০ অক্টোবরের মতো নির্দিষ্ট তারিখও ঘুরেছে, কিন্তু সেসব তারিখের কোনো সরকারি ভিত্তি নেই বলে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় সাধারণত টাকা ছাড়ার এক বা দুই দিন আগে তারিখ জানায়, এবারও সেই ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন সবাই। এবার দীপাবলি পড়েছে ৮ নভেম্বর, উৎসবের আগেই টাকা হাতে পেতে পারেন কৃষকরা, এমন প্রত্যাশার কথাও বলা হচ্ছে। তবে দিনক্ষণ নিশ্চিত হবে কেবল সরকারি ঘোষণার পরই।
এর মধ্যেই ছড়িয়েছে ভুয়া খবরও। কোনো কোনো বার্তায় দাবি করা হয়েছে, এবার ২০০০ টাকার বদলে ৪০০০ টাকা করে পাবেন কৃষকরা। ভারত সরকারের তথ্য যাচাই সংস্থা পিআইবি ফ্যাক্ট চেক এই দাবিকে ভুয়া বলে জানিয়েছে। কিস্তির অঙ্ক ২০০০ টাকাই থাকছে, অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর কোনো ঘোষণা আসেনি। তাই ফরোয়ার্ড করা বার্তা বা অজানা ওয়েবসাইটের নির্দিষ্ট তারিখের দাবিতে কান না দিতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
টাকা ঠিকঠাক পেতে হলে তিনটি শর্ত পূরণ থাকা জরুরি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। প্রথমত, ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ থাকতে হবে, এটি প্রত্যেক নিবন্ধিত কৃষকের জন্য বাধ্যতামূলক। পোর্টালে আধার নম্বর দিয়ে ওটিপির মাধ্যমে, পিএম কিসান মোবাইল অ্যাপে মুখ শনাক্তকরণের মাধ্যমে, কিংবা নিকটস্থ কমন সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ই-কেওয়াইসি করা যায়। দ্বিতীয়ত, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযুক্ত (সিডিং) থাকতে হবে। তৃতীয়ত, রাজ্যের রাজস্ব দপ্তরের খাতায় জমির রেকর্ড হালনাগাদ ও যাচাই করা থাকা চাই। এই তিনটির যেকোনো একটি অসম্পূর্ণ থাকলেই কিস্তির টাকা আটকে যেতে পারে।
নিজের অবস্থা যাচাই করতে কৃষকরা ভিজিট করতে পারেন প্রকল্পের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট pmkisan.gov.in। সেখানে "নো ইয়োর স্ট্যাটাস" অপশনে গিয়ে নিবন্ধন নম্বর ও ক্যাপচা দিয়ে ওটিপি যাচাই করলেই কিস্তির অবস্থা, ই-কেওয়াইসি ও জমির রেকর্ডের তথ্য দেখা যাবে। প্রয়োজনে হেল্পলাইন নম্বর ১৫৫২৬১ ও ০১১-২৪৩০০৬০৬-এ ফোন করেও সহায়তা পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সরকারি ঘোষণা আসার আগেই যার যার কাগজপত্র ও তথ্য ঠিকঠাক করে রাখুন, যাতে টাকা ছাড়ার পর কারও ভাগে অপেক্ষা না জোটে।