
রাজধানীর মিরপুরের শাহআলী মাজার এলাকায় বসা পোষা প্রাণীর হাটে সম্প্রতি এক জোড়া বিশেষ রঙের টিয়া পাখির দাম চাওয়া হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। বাঁকানো লাল ঠোঁট ও ঘাড়ে কালো দাগযুক্ত এই পাখিগুলো রিংনেক ভায়োলেট নামে পরিচিত। সাধারণ সবুজ টিয়ার মতোই দেখতে হলেও এদের পালকে রয়েছে নজরকাড়া বেগুনি আভা। জিনগত বৈচিত্র্য, বাছাই করা প্রজনন এবং বাজারে সীমিত সরবরাহের কারণে এই বিরল প্রজাতির পাখির চড়া দাম নিয়ে শৌখিন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সাধারণত রিংনেক প্যারাকিটের স্বাভাবিক রং সবুজ হয়ে থাকে। তবে জিনগত বৈচিত্র্য এবং বিজ্ঞানভিত্তিক বাছাই করা প্রজননের মাধ্যমে লুটিনো, ব্লু ভায়োলেট, অ্যালবিনো ও বাটার কাপসহ নানা রঙের রিংনেক তৈরি করা হয়। ভায়োলেট তেমনই একটি মিউট্যান্ট ভ্যারাইটি। একসময় এসব রঙের পাখি পাকিস্তান ও ভারত থেকে আমদানি করা হলেও বর্তমানে দেশেই এগুলোর প্রজনন করা হচ্ছে। তবে প্রতিবার প্রজননে একই রঙের বাচ্চা পাওয়া নিশ্চিত না হওয়ায় বাজারে চাহিদার তুলনায় এসব পাখির জোগান বেশ কম।
রিংনেক ভায়োলেট হলো রিংনেক প্যারাকিটের একটি মিউটেশন। বাছাই করা প্রজননের মাধ্যমে নানা রঙের রিংনেক পাওয়া যায়। বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় ধীরে ধীরে এসব পাখির দাম বেড়েছে। - আ ন ম আমিনুর রহমান, পোষা পাখি ও বন্য প্রাণী প্রজনন বিশেষজ্ঞ
পাখির পালকে হলুদ, লাল ও গোলাপি রং তৈরিতে পিকেএস নামের একটি এনজাইম কাজ করে। এই এনজাইমের কার্যক্রমে জিনগত পরিবর্তন আসায় পালকের রঙেও ভিন্নতা দেখা দেয়। প্রজননকারীরা বিশেষ বৈশিষ্ট্যের পাখি বেছে নিয়ে বারবার প্রজনন করিয়ে নির্দিষ্ট রঙের প্রজননধারা তৈরি করেন। কাটাবনের ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ভায়োলেট নয়, রিংনেকের বিরল কিছু অপালাইন প্রজাতির এক জোড়া পাখির দাম চার থেকে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। পাঁচ বছর আগেও যে ভায়োলেট জোড়ার দাম ছিল ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা, এখন তা দুই লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকায় ঠেকেছে।
এদিকে রিংনেক ভায়োলেটের মতো ভিন্ন রঙের পাখির দাম বৃদ্ধির পেছনে দেশে বৈধভাবে আমদানির সুযোগ না থাকাও একটি বড় কারণ। বন বিভাগের মতে, দেশীয় বন্য প্রজাতির সঙ্গে খাঁচায় পালা রিংনেকের বৈজ্ঞানিক নাম একই হওয়ায় বর্তমানে এই পাখি আমদানির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তবে বৈজ্ঞানিক কমিটিতে আলোচনা সাপেক্ষে ভবিষ্যতে আমদানির সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী দেশীয় টিয়া ধরা বা পোষা নিষিদ্ধ হলেও খাঁচায় পালা রিংনেক ভায়োলেট পোষা আইনগতভাবে অবৈধ নয়।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।