
মায়ের সামান্য বকুনিতে অভিমান করে ঘর ছেড়ে ঢাকায় পালিয়ে যাওয়া সাত বছর বয়সী সাইদুল ১১ দিন পর অবশেষে নিজের বাড়িতে ফিরেছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ছোট বোনের সঙ্গে বচসা ও মায়ের বকুানির জেরে চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে চড়ে ঢাকায় চলে আসে সে। অতীতের স্মৃতিবিজড়িত বিজয়নগরের সড়ক বিভাজকে পথশিশুদের সঙ্গে সময় কাটানোর পর গত ৭ অক্টোবর বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে সে বাড়ি পৌঁছায়। দীর্ঘ পাঁচ বছর হারিয়ে থাকার পর চলতি বছরের এপ্রিলে উদ্ধার হওয়া সাইদুলের এই নব্য পলায়ন ও ঘরে ফেরা নিয়ে পরিবারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
এর আগে ২০২১ সালে ভুল ট্রেনে চড়ে ঢাকায় এসে হারিয়ে গিয়েছিল সাইদুল। দীর্ঘ পাঁচ বছর অচেনা শহরের ফুটপাতে কাটিয়ে চলতি বছরের এপ্রিলে প্রথম আলোর মাধ্যমে সে তার মা ফাতেমা আক্তার ও বাবা মোস্তফা কামালের কাছে ফিরেছিল। কিন্তু চেনা ঘরের মায়া কাটিয়ে গত ২৬ সেপ্টেম্বর সে আবার বাড়ি ছাড়ে। ওই দিন সকালে খাবার না খেয়ে ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মা ফাতেমা। পরে সংবাদকর্মীদের সহায়তায় বিজয়নগরের পথশিশুদের আড্ডায় তার খোঁজ মেলে এবং বন্ধুরা তাকে বুঝিয়ে বাড়ি ফেরাতে সহায়তা করে।
বিজয়নগরের সড়ক বিভাজকের এক গাছের নিচে সাইদুলকে দেখতে পাওয়ার পর স্থানীয় এক পানের দোকানদার রাসেলের মুঠোফোন থেকে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে সে। মায়ের কাছে আকুতি জানিয়ে সে বলে, ‘মা, আমারে নিয়্যা যাও।’ তবে আর্থিক সংকট ও হুট করে কাজের ছুটি না পাওয়ায় মা ফাতেমা তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকায় আসতে পারেননি। তিনি ছেলেকে একা ভ্রমণ করতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত যাত্রার আগেই বুধবার মধ্যরাতে সে নিজেই বাড়ি ফিরে যায়। তবে বাড়ি ফেরার পর থেকেই সে জ্বরে ভুগছে এবং তাকে নিয়মিত ওষুধ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তার মা।
সাইদুলকে একা আসতে মানা করেছিলাম, কারণ একা আসলে সে আবার ট্রেনের ছাদে উঠবে। তবে সে নিজে থেকেই বাড়ি চলে এসেছে। আসার পর থেকেই অসুস্থ, ওষুধ খাওয়াচ্ছি। - ফাতেমা আক্তার, সাইদুলের মা
ছেলের এই বারবার ঘর ছাড়ার প্রবণতায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন তার বাবা মোস্তফা কামাল। তিনি জানান, প্রথম সন্তান হওয়ায় সাইদুলকে একটু বেশি আদর করা হয়। সে ফিরে আসায় পরিবারে স্বস্তি ফিরলেও তার স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন রাস্তায় কাটানো এই কিশোরের মন থেকে পথের আকর্ষণ পুরোপুরি মোছেনি। সে এখনো আনমনা হয়ে ঢাকার পথে যাওয়ার আকৃতির কথা জানায়। পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসন এখন এই কিশোরের মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও সুরক্ষার ওপর জোর দিচ্ছে যাতে সে আর কখনো এমন ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে না নেয়।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।