
টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামকরণের অদ্ভুত ভুলের কারণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি দুটি গ্রামের বিদ্যালয় দুটির নাম পাল্টাপাল্টি হওয়ায় এবং অপর দুটি বিদ্যালয়ের নাম হুবহু এক হওয়ায় এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বিদ্যালয়গুলোর নাম সংশোধনের উদ্যোগ না নেওয়ায় সমস্যা দিন দিন ঘনীভূত হচ্ছে। একবার নামজনিত বিভ্রান্তির কারণে অপরাধের স্থানে না গিয়ে পুলিশ চলে গিয়েছিল অন্য বিদ্যালয়ে। এছাড়া সরকারি কাগজপত্রে কোড নম্বরের মিল না থাকায় উন্নয়ন বরাদ্দও হাতছাড়া হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সখীপুরের কীর্তনখোলা গ্রামে অবস্থিত বিদ্যালয়ের নাম কালিয়ানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আবার দেড় কিলোমিটার দূরের কালিয়ানপাড়া গ্রামে অবস্থিত বিদ্যালয়ের নাম কীর্তনখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৩৮ সালে কীর্তনখোলা গ্রামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময় মুরুব্বিরা দুই গ্রামের অবদানকে স্মরণীয় রাখতে গ্রামের নামের সঙ্গে মিলিয়ে এই নামকরণ করেছিলেন। এর ২৭ বছর পর ১৯৬৫ সালে কালিয়ানপাড়া গ্রামে আরেকটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হলে সেটির নামও কীর্তনখোলার নামে রাখা হয়। অন্যদিকে, সখীপুরের প্রতিমাবংকী উত্তরপাড়া গ্রামেও একই নামে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যেগুলোর একটি ১৯৯৬ এবং অন্যটি ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৩ সালে বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের পর নামকরণে এই জটিলতা স্থায়ী রূপ নেয়।
নামের এই গোলমাল কীভাবে দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে, তার বর্ণনা দিয়ে কালিয়ানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কামাল হোসেন জানান, ২০১৭ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এক কেন্দ্রে জাল ভোট নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটলে পুলিশ ভুল করে কীর্তনখোলা গ্রামের বিদ্যালয়ে চলে যায়। পরে পরিস্থিতি শান্ত দেখে তারা বুঝতে পারেন যে গোলমাল হয়েছে অন্য গ্রামে। বিদ্যালয়ের নাম গ্রামের নামের সঙ্গে না মিললে এমন ভুল প্রায়ই ঘটে বলে জানান তিনি। এছাড়া প্রতিমাবংকী উত্তরপাড়া-১ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমনা নাসরিন জানান, বিদ্যালয়ের ভবন ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের সরকারি বরাদ্দ আসলেও পাশের বিদ্যালয়ের কোড নম্বর থাকায় সেই বরাদ্দ বাতিল হয়ে যায়। ফলে উভয় বিদ্যালয়ই বঞ্চিত হয়।
বিদ্যালয়গুলোর এমন অদ্ভুত নামকরণের কারণে দাপ্তরিক কাজ এবং সরকারি হিসাব নিকাশে নিয়মিত জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষা কর্মকর্তা বা সরকারি কোনো পরিদর্শনের সময় নির্দিষ্ট বিদ্যালয়টি চিহ্নিত করতে বেশ বেগ পেতে হয়। শিক্ষার্থীরাও মাঝেমধ্যে এই নাম নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে। বিদ্যালয়গুলোর ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং প্রধান শিক্ষকরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নাম পরিবর্তনের জন্য আবেদন করলেও এখনো তার কোনো সুরাহা হয়নি।
এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, স্থানীয় সব পক্ষ ও জনপ্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে চাইলে তিনি বিদ্যালয়গুলোর নাম পরিবর্তনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন। তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ এখনই কমছে না।
বিদ্যালয়গুলোর বর্তমান পরিস্থিতি এবং জটিলতা নিরসনে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে সরকারি সহায়তা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে এই বিপত্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় সচেতনমহল অবিলম্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে এই নামকরণের ত্রুটি দূর করে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের জোর দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।