
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকারের সাংগঠনিক ভিত্তি হিসেবে বিএনপির নেতাকর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক নির্বাচনে দলটি উল্লেখযোগ্য আসন লাভ করার পর দেশের ভবিষ্যৎ অনেকটাই তাদের সঠিক ভাবনা ও পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে। জনগণের স্বস্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এবং নীতিনির্ধারকদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের রাজনৈতিক সজাগতা এখন সময়ের দাবি।
অতীতে দেখা গেছে, এ দেশে কার্যকর বিরোধী দলের অভাবে বা দলহীন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সরকার ও দল একাকার হয়ে পড়ে। ফলে প্রশাসনতন্ত্রের চরিত্র অনুযায়ী মাঠের প্রকৃত বাস্তবতা অনেক সময় ওপরের মহলে পৌঁছায় না। প্রান্তিক পর্যায় থেকে সঠিক তথ্য ও জনগণের চাহিদা তুলে না ধরলে সরকারের নীতিনির্ধারণে ভুল হওয়ার শঙ্কা থাকে, যা অতীতে বিভিন্ন সরকারের পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন মহলের মতে, অন্ধ সমর্থনের চেয়ে গঠনমূলক ভিন্নমত এবং সঠিক সমালোচনা দলের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার জন্য বেশি ফলপ্রসূ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ভাবনা তুলে ধরে একটি মুক্তমতের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
অন্ধ সহমতের চেয়ে সৎ ভিন্নমত বেশি নিরাপত্তাদায়ী, যা রাজনৈতিক কর্মীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নিরাপত্তার স্বার্থেও অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমান অর্থনৈতিক সূচক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনের দিকে তাকালে দেখা যায়, দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী দারিদ্র্যসীমার কাছাকাছি থাকা মানুষের সংখ্যা এবং কর্মসংস্থানের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের দাবিদার। বড় বড় প্রকল্পের পাশাপাশি কৃষি, পোলট্রি ও মৎস্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ রয়েছে। জেলা ও উপজেলা স্তরের নেতাকর্মীদের উচিত এসব বাস্তব চাহিদা নীতিনির্ধারকদের অবহিত করা।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু ও হামের দ্বৈত ঝুঁকি মোকাবিলায় চাই বাড়তি সচেতনতা
পরিশেষে, বিগত দিনের রাজনৈতিক ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ভুলত্রুটি এড়ানোর একমাত্র উপায় হলো শাসক দলের কর্মীদের স্বাধীন মতামত তুলে ধরা। সরকারি কাজে কোনো ভুল ত্রুটি দেখা দিলে তা সময়মতো নীতিনির্ধারকদের জানানো এবং দলের ভেতর জবাবদিহিতা বজায় রাখা এখন সময়ের জোরালো দাবি। এতে একদিকে যেমন জনগণের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে রাজনৈতিক দল ও সরকার উভয়েই দীর্ঘমেয়াদে সুফল পাবে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।