
ভোট চুরির পাশাপাশি নরেন্দ্র মোদি সরকার এবার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্থানগুলোও কেড়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিরোধীদলীয় জোট ‘ইন্ডিয়া’। গত মঙ্গলবার বিকেলে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক চা, চক্র শেষে এই অভিযোগ করেন জোটের শীর্ষ নেতারা। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারের এই দমনপীড়ন ও চক্রান্ত কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না এবং গণতন্ত্র রক্ষায় এই আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে।
এর আগে গত সোমবার সফল সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করে। রাজধানী দিল্লিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা একযোগে এই অগণতান্ত্রিক আচরণের প্রতিবাদ জানান। মঙ্গলবার সকালে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাহুল গান্ধীর আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিহারের আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, সমাজবাদী পার্টির নেতারা এবং সিপিআই, সিপিআইএমএল ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
রাহুল গান্ধী বলেন, এই লড়াই একটাই। সবাই একজোট হয়ে একটাই লড়াইয়ে নেমেছি। এখানে কোনো সমান্তরাল লড়াই হচ্ছে না। এই আন্দোলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একটাই, গণতন্ত্র রক্ষা। সংবিধান অক্ষত রাখা। গণতান্ত্রিক অধিকার অটুট রাখা। তিনি বলেন, বিরুদ্ধ স্বর দমাতে ভোট চুরির পর সরকার এবার বিক্ষোভের স্থানটাও চুরি করে নিচ্ছে। এটা আমরা হতে দেব না। চ্যালেঞ্জ জানাব।
এদিকে যন্তর মন্তর অভিযান এবং বিক্ষোভের স্থান নির্ধারণ নিয়ে দিল্লি পুলিশ ও মেট্রো কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে। যন্তর মন্তরের গেট টপকে ঢোকার অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। অন্যদিকে, দিল্লি হাইকোর্টে রাজধানী দিল্লির ব্যবসায়ী মহল আবেদন করে জানিয়েছেন যে এই রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্দোলনের কারণে তাঁদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর বেঞ্চে এই বিষয়ে নির্ধারিত শুনানি বিচারপতি ভি মোহনার অসুস্থতার কারণে স্থগিত হলেও আগামী বৃহস্পতিবার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং প্রশাসনিক কড়াকড়ির বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর এই অনড় অবস্থান আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সব মতপার্থক্য ভুলে ইন্ডিয়া জোট ও সমমনা দলগুলোর এই যৌথ আন্দোলন সরকারের ওপর বাড়তি রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
আরও পড়ুন: দিল্লিতে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিশাল বিক্ষোভ, আটক আড়াই হাজার
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।