বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইউরোপিয়ান প্রতিপক্ষের সামনে ব্রাজিলের সেই পুরোনো জুজু আবারও ফিরে এল। ২০০২ সালের পর থেকে নকআউটে ইউরোপিয়ান দলের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার যে গেরোয় সেলেসাওরা আটকে আছে, এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। কোচ কার্লো আনচেলত্তির চরম কৌশলগত ব্যর্থতা এবং আর্লিং হালান্ডের জাদুতে নরওয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
আনচেলত্তির ভুল কৌশল ও বল দখলের করুণ চিত্র
ম্যাচের শুরু থেকেই আনচেলত্তির গেম প্ল্যান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নরওয়ের মতো দলের বিপক্ষে বলের দখল ছেড়ে দিয়ে পাল্টা আক্রমণের যে কৌশল তিনি বেছে নিয়েছিলেন, তা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, প্রথম ১০ মিনিটে নরওয়ের পায়ে বলের দখল ছিল ৮০ শতাংশ। পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের বল পজেশন ছিল মাত্র ৩৪ শতাংশ, যা তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বনিম্ন। নিজেদের চিরায়ত আক্রমণাত্মক ফুটবল ভুলে রক্ষণাত্মক হয়ে ওঠার চরম মাশুল দিতে হয়েছে ব্রাজিলকে।
সুযোগ হাতছাড়া ও নাইলান্ডের বীরত্ব
ব্রাজিল যে একেবারে সুযোগ পায়নি, তা নয়। তবে প্রাপ্ত সুযোগগুলো কাজে লাগাতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে তারা। প্রথমার্ধে ব্রুনো গিমারেসের একটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে দিয়ে নরওয়েকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন তাদের গোলরক্ষক নাইলান্ড। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে এন্দ্রিক গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন। নাইলান্ডের অতিমানবীয় সেভগুলোই মূলত ব্রাজিলের কফিনে পেরেক ঠুকে দেয়।
হালান্ডের দাপট ও ভুল বদলি
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আনচেলত্তির কিছু ভুল বদলি ব্রাজিলের ছন্দপতন ঘটায়। মার্তিনেল্লি ও রায়ানের মতো খেলোয়াড়দের তুলে নিয়ে দানিলো সান্তোস ও নেইমারকে মাঠে নামানোর পর ব্রাজিল তাদের আক্রমণের ধার হারিয়ে ফেলে। এই সুযোগে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় নরওয়ে। শেলড্রুপের নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে এবং পরে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল করে ব্রাজিলের 'জাতীয় শত্রু'তে পরিণত হন আর্লিং হালান্ড। তার মার্কিংয়ে থাকা মাগালায়েস ছিলেন একেবারেই অসহায়।
বল দখলে না রাখা, সৃজনশীলতার অভাব এবং সুযোগ হাতছাড়া করার খেসারত দিয়ে আরও একবার হারের গ্লানি নিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করল সেলেসাওরা।
মন্তব্য করুন