চীন সফর শেষে দেশে ফিরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। "চীন সফর থেকে নগদ কী পেলেন?" এই প্রশ্নের জবাবে তিনি যা বললেন, তা ছিল সরাসরি এবং তীক্ষ্ণ।
"আমরা ভিক্ষার থলি নিয়ে যাইনি। দুই দেশের সম্পর্কের অভিমুখ ঠিক করতে এই সফর। একটু আত্মসম্মানবোধ রাখেন। এ ধরনের বিব্রতকর প্রশ্ন করবেন না।"
শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এভাবেই সাংবাদিকদের জবাব দেন তিনি।
করিডোর নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি
চীনের প্রস্তাবিত করিডোর নিয়ে দেশজুড়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে, তবে চূড়ান্ত অবস্থান এখনো নেওয়া হয়নি।
"আমরা চীনের করিডোর প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখছি। তবে এখনো কোনো অবস্থান নিইনি," বলেন তিনি। করিডোর নিয়ে সরকারের আগ্রহের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে পরিবহন খরচ কমানোর বিষয়টিকে সামনে এনেছেন তিনি। করিডোর চালু হলে ট্রাকে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় পণ্য পৌঁছে যাবে চীনে এই আশার কথাও রয়েছে সরকারের হিসাবের মধ্যে।
এলিট ক্লাবে বাংলাদেশ
সফরের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে উঠে আসছে একটি কূটনৈতিক মর্যাদার প্রশ্ন। বাংলাদেশ ও চীন তাদের সম্পর্ককে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে এই ঘোষণাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন "বড় মাইলফলক"।
কারণটা জানালেন তিনি নিজেই "চীন সব দেশের সঙ্গে সর্বোচ্চ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখে না। এশিয়ায় থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো হাতেগোনা কয়েকটি দেশের সঙ্গে তাদের এমন অংশীদারিত্ব রয়েছে। এখন বাংলাদেশও সেই তালিকায় যুক্ত হলো।"
অর্থাৎ কূটনৈতিক মর্যাদার দিক থেকে বাংলাদেশ ঢুকে পড়েছে একটি বিশেষ দেশের তালিকায় যারা বেইজিংয়ের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
তিস্তায় আশার আলো
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়েও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, চীনের সঙ্গে তিস্তা প্রকল্পের আলোচনায় "উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি" হয়েছে।
"তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। আমরা আশা করছি, খুব দ্রুতই এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হবে।"
সম্পর্কের নতুন অধ্যায়
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্যে, এই সফর শুধু কোনো চুক্তি বা প্রকল্পের জন্য নয় এটি দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের নতুন ভিত্তি গড়ার যাত্রা। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ও চীনের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের প্রতিফলন।
করিডোর, তিস্তা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উচ্চতা এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই এখন ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের পরবর্তী অধ্যায় রচিত হতে চলেছে।
মন্তব্য করুন