
নারী সাংবাদিকদের যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়েরের দাবিতে ভারতের রাজধানী দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে বিক্ষোভ চলাকালে ফ্রিল্যান্স ও ইউটিউবারসহ মোট ১৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে এই ধরপাকড়ের ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে সেই নারী সাংবাদিকও রয়েছেন যিনি দিল্লি পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসিপি) বিবেক ভগতের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন। বিক্ষোভকারীরা থানার ভেতরে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে মামলার বর্তমান অবস্থা জানতে চাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের জোরপূর্বক বাসে করে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার যন্তর মন্তরে একটি রাজনৈতিক বিক্ষোভের খবর সংগ্রহের সময়। তিন নারী সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দিল্লি পুলিশের এসিপি বিবেক ভগতের বিরুদ্ধে অশালীনভাবে শরীর স্পর্শ করা ও ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ করেন। এই ঘটনার পর থেকেই শনিবার রাত থেকে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষ। রবিবারের পর সোমবার সকালেও এই অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে পুলিশ হঠাৎ কড়া অবস্থান নেয় এবং জমায়েত থেকে সাংবাদিক ও বিক্ষোভকারীদের আটক করে।
ভুক্তভোগী নারী সাংবাদিকদের একজন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভের সময় এসিপি বিবেক ভগত তাদের পেশাগত দায়িত্বে বাধা দেন এবং শারীরিকভাবে হেনস্থা করেন। এই বিষয়ে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, তারা তিনজন নারী সাংবাদিকের কাছ থেকে তিনটি পৃথক লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন এবং ক্রাইম ব্রাঞ্চ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
পুলিশের এই ন্যাক্কারজনক ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারতের প্রেস কাউন্সিল একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দিল্লি পুলিশকে অবিলম্বে নারী সাংবাদিকদের অভিযোগের বিষয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সাথে সংবাদ সংগ্রহকালে গণমাধ্যমকর্মীরা যেন কোনো ধরনের আগ্রাসন বা হুমকির মুখে না পড়েন, তা রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন যে, নিজেদের বিভাগীয় কর্মকর্তাকে বাঁচাতে এবং বিক্ষোভকারীদের ভয় দেখাতেই দিল্লি পুলিশ এই ধরনের দমনমূলক ও স্বেচ্ছাচারী আচরণ করছে।
আরও পড়ুন: ডিএমপির তিন সহকারী পুলিশ কমিশনারকে বদলি করা হয়েছে
বর্তমানে পুরো দিল্লি জুড়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্রাইম ব্রাঞ্চের তদন্তের কথা জানানো হলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো ফৌজদারি মামলা বা এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়নি। ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে আগামী দিনে আরও বড় ধরনের আন্দোলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।