
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭১ জনে। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১ হাজার ৯০২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এডিস মশাবাহিত এই রোগের বিস্তার লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগরসহ দেশের বড় শহরগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, সময়মতো হাসপাতালে না আসার কারণে রোগীর অবস্থা জটিল হচ্ছে এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা ডেঙ্গু রোধে মশা নিধনের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন। জ্বর দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করানোর এবং পর্যাপ্ত তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান অতীতের অনেক রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কার্যকর মশানিধন কার্যক্রমের অভাব এবং অসচেতনতার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ছে। হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সক্রিয় হয়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বিশেষ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখার এবং দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসলে আগামীতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।