
লেবানন সীমান্তবর্তী ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে অবিস্ফোরিত অবস্থায় থাকা গোলাবারুদ থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বিস্ফোরণে অন্তত ২০ জন মানুষ আহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকালে মানারা ও ইফতাহ বসতির মধ্যবর্তী স্থানে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় পুলিশ জানায়, উত্তরাঞ্চলের নে’ওত মর্দেখাই সম্প্রদায়ের মানুষের বসতির কাছাকাছি এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যার ফলে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ইসরায়েলের জাতীয় জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ) দ্রুত ঘটনাস্থলে একাধিক অ্যাম্বুলেন্স পাঠায়। সংস্থাটির চিকিৎসাকর্মীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে অন্তত আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন। চিকিৎসকেরা তাঁদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। এ ছাড়া তুলনামূলক কম আঘাত পাওয়া আরও বেশ কয়েকজনকে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক সেবা দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এলাকায় আগে থেকে পড়ে থাকা কোনো অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়ে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
কিরিয়াত শমোনা জেলার পুলিশ সদস্যরা পুরো এলাকা ঘিরে রেখে জনসাধারণের চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের বিশেষজ্ঞরা বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট উৎস ও কারণ খতিয়ে দেখছেন। অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। এই ঘটনার পরপরই অধিকৃত পশ্চিম তীরে নিজের পূর্বনির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভিরও তাঁর পূর্বনির্ধারিত একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিল করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি আবার মনে করিয়ে দিচ্ছে যে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল বিশেষ করে লেবানন সীমান্তে এখনো সামরিক অভিযান চলমান রয়েছে। ২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েল হামলা চালানোর পর লেবাননের হিজবুল্লাহ রকেট হামলা শুরু করে। এর ফলে উত্তর ইসরায়েলে বসবাসকারী হাজার হাজার মানুষ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। মার্চে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাতের পর নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকা দখল করে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলের ঘটনাস্থলে সেনা ও হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। এই অঞ্চল থেকেই ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননে নিয়মিত সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহও মাঝেমধ্যে সীমান্তের ওপর থেকে রকেট ছুড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এখনো নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়ে থাকায় নিজ এলাকায় ফেরেননি, যা সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।