সংক্ষেপে মূল তথ্য
- উত্তর কোরিয়ার নেতার বোন কিম ইয়ো জং দক্ষিণ কোরিয়াকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
- কয়েক দিনের মধ্যে পুরো সীমান্তজুড়ে দক্ষিণবিরোধী লাউডস্পিকার প্রস্তুত রাখবে পিয়ংইয়ং, অক্টোবরের শেষ নাগাদ সেগুলো চালু হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
কোরীয় উপদ্বীপে আবার বাড়ছে উত্তেজনা। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং দক্ষিণ কোরিয়াকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কয়েক দিনের মধ্যেই পুরো সীমান্তজুড়ে দক্ষিণ কোরিয়াবিরোধী লাউডস্পিকার প্রস্তুত অবস্থায় রাখবে পিয়ংইয়ং। একই সঙ্গে নতুন ধরনের পাল্টা ব্যবস্থাও সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারি দেন কিম ইয়ো জং।
বিবৃতিতে তিনি সিউলকে সতর্ক করে বলেন, পিয়ংইয়ং যেটাকে উত্তরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ মনে করে, দক্ষিণ কোরিয়া তা চালিয়ে গেলে "সবচেয়ে ভয়াবহ ও যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির" মুখোমুখি হতে হবে। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সীমান্তের প্রতিরক্ষা স্থাপনা পরিদর্শন করেন কিম ইয়ো জং। সেই সফরের পর তিনি জানান, অক্টোবর মাসের শেষ নাগাদ সীমান্তজুড়ে লাউডস্পিকারগুলো চালু করা হবে।
কিম ইয়ো জং অভিযোগ করেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা সীমান্তের কাছাকাছি একাধিক জায়গায় সতর্কতামূলক সম্প্রচার ও সতর্কতামূলক গুলি চালিয়েছে। তবে সিউলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই গুলি ছিল বৈধ ও আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া হুমকি বাস্তবায়ন করলে সিউলও আনুপাতিক পদক্ষেপ নেবে।
দুই কোরিয়ার মধ্যে লাউডস্পিকার দিয়ে প্রচারণা চালানোর ইতিহাস পুরোনো। সীমান্তের অসামরিক অঞ্চলজুড়ে বসানো এসব লাউডস্পিকার দিয়ে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে এসেছে, যা বারবার উত্তেজনার কারণ হয়েছে। এবারের হুঁশিয়ারি সেই পুরোনো মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ আবার ফিরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হুমকি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের জন্য বড় ধাক্কা। গত বছরের জুনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বৈরিতা কমানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক এই উত্তেজনায় দুই কোরিয়ার সম্পর্ক এখন তার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করা হচ্ছে।