
ইসলামাবাদ: সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা পাকিস্তানের নিজেদের ভূখণ্ডের নিরাপত্তা রক্ষার মতোই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, রিয়াদের ওপর যেকোনো ধরনের হুমকি বা আগ্রাসন মোকাবিলায় সর্বশক্তি দিয়ে পাশে থাকবে ইসলামাবাদ।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক কূটনীতির অংশ হিসেবে পাকিস্তান, সৌদি আরব, ইরান ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির তেহরানে ইরান, সৌদি আরব ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। এই বৈঠকের পরই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সৌদি নিরাপত্তার বিষয়ে এমন দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করা হলো।
সৌদি আরবকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা যেমন আমাদের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাও আমাদের কাছে ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। রিয়াদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আনুষ্ঠানিক চুক্তির সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
খাজা আসিফ তার বক্তব্যে একটি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো লিখিতভাবে অঙ্গীকার করেছে যে এই চুক্তির আওতাভুক্ত কোনো হুমকি দেখা দিলে তারা সম্মিলিতভাবে তার মোকাবিলা করবে। তেহরানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সৌদি আরব ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এই কূটনৈতিক তৎপরতার গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের উদ্যোগের ফলেই এই যৌথ প্রয়াস সম্ভব হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হুতিদের হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পাকিস্তান ও সৌদি আরবের এই দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারিত্ব কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দুই দেশই পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।