|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ

গাজীপুরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর লাশ উদ্ধার, ৯৯৯-এ ফোন করে ধূমপান স্বামী

0 শেয়ার
ঘটনার পর শ্রীপুর থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ঘটনার পর শ্রীপুর থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • গাজীপুরের শ্রীপুরে নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
  • ৯৯৯-এ কল করে স্ত্রীকে হত্যার কথা জানান তাঁর স্বামী উদ্ভব চন্দ্র দাস।
  • পুলিশ গিয়ে লাশের পাশ থেকে তাঁকে ধূমপানরত অবস্থায় আটক করে।

গাজীপুরের শ্রীপুরে নয় মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর গলা ও শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্নসহ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহত নারীর স্বামী উদ্ভব চন্দ্র দাসকে (২৮) ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে। গতকাল রোববার রোববারের দিবাগত রাত পৌনে বারোটার দিকে উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের বড়চালা গ্রামে এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। নিহত সীমা রানী দাস (২৫) চিনাশুকানিয়া গ্রামের উদ্ভব চন্দ্র দাসের স্ত্রী। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ছাড়াল এক লাখ, মৃত্যু বেড়ে ৩০৮ জন

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে উদ্ভব নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে তাঁর স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। এরপর ঘরের বাতি নিভিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে লাশের পাশেই বসে থাকেন তিনি। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ দ্রুত বড়চালা গ্রামে পৌঁছায় এবং স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় দরজা খোলার নির্দেশ দেয়। দরজা খোলার পর পুলিশ দেখতে পায়, অভিযুক্ত উদ্ভব ঘরের ভেতর স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহের পাশে বসে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ধূমপান করছেন। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে হেফাজতে নেয় এবং ঘর থেকে সীমার মরদেহ উদ্ধার করে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, নিহত সীমার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

মাদকাসক্তি এবং পারিবারিক পটভূমি

স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, উদ্ভব চন্দ্র দাসের মাদকের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি ছিল। মাদকাসক্তির তীব্রতার কারণে তাঁর প্রথম স্ত্রীও তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। এরপর প্রায় দুই বছর আগে তিনি সীমাকে বিয়ে করেন। মাদকাসক্তি থেকে ফেরাতে তাঁকে একাধিকবার পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। সর্বশেষ তিন মাস আগে একটি পুনর্বাসনকেন্দ্র থেকে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি। ঘটনার রাতে উদ্ভবের বাবা পাশের ঘরে ঘুমিয়ে থাকায় তিনি প্রাথমিকভাবে কোনো শব্দ বা টের পাননি। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

এই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক কলহ কিংবা মাদকাসক্তির জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার পেছনের অন্যান্য কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।

Dhaka Story
Dhaka Storyভেরিফাইড

ঢাকা স্টোরি সততা ও সত্যতা যাচাই নীতিমালার অধীনে খবর প্রকাশ করে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজ্ঞাপন

Advertisement
Advertisement
বিজ্ঞাপন
Advertisement
Dhaka Story
ঢাকা স্টোরি
তাত্ক্ষণিক নিউজ আপডেট

ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।