
রাজধানীর পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্রের মহড়া ও শোডাউনের ভিডিও ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে গ্যাংয়ের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। গত সোমবার দিবাগত রাতে এসআরবি-৪-এর একটি দল পল্লবী থানার সিরামিক এলাকা ও ১২ নম্বর ঝিলপাড়ায় অভিযান চালিয়ে মশিউর-মামুন গ্রুপের সাতজন এবং মোক্তার গ্রুপের একজনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযানে তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি গুলি, দেশীয় অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন জুয়েল রানা, সায়মন, রমজান, বিজয়, ফজলে রাব্বি চিকু, আফসার হোসেন জিম, জাহাঙ্গীর হোসেন ও মিশন ইসলাম ওরফে মিনহাজুল ইসলাম। এদের মধ্যে আফসার হোসেন জিম 'ফোর স্টার' গ্রুপের মশিউর-মামুন অংশের প্রধান শুটার হিসেবে পরিচিত। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় জমি ও স্থাপনা দখল, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
এসআরবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা রয়েছে এবং তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। কিশোর গ্যাং ও অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আফসার ও সায়মনের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। সায়মন অস্ত্র বহন ও গুলিবর্ষণের সময় সামনের সারিতে থাকতেন। এছাড়া মাদক নিয়ন্ত্রণের সাথে জড়িত জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তারের সময় ২৫টি ইয়াবা বড়ি ও ১৬ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধেই একাধিক পূর্বের মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে এসআরবি।
সাম্প্রতিক সময়ে মিরপুর, পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও অস্ত্রের মহড়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে এবং ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এই আটজনকে আইনের আওতায় আনা হয়।
আরও পড়ুন: আইভীর আইনজীবীসহ তিনজনকে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অপরাধ চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।